শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের থেরাপি সেবা প্রদান করে পিরোজপুরের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র ইতোমধ্যে রোগীদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিতে সুসজ্জিত এ কেন্দ্রে বিনামূল্যে উন্নতমানের থেরাপি চিকিত্সার ব্যবস্থা এ আগ্রহের কারণ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সারাদেশে যে ১০৩টি অনুরূপ সেবা কেন্দ্র পরিচালনা করছে পিরোজপুরেরটি এর অন্যতম। পিরোজপুর কেন্দ্রে ১১ ধরনের রোগাক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে ১০ ধরনের সেবা প্রদান করা হয়। ২০১২ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি পিরোজপুরে কাজ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার নিবন্ধিত ব্যক্তিকে বিভিন্ন থেরাপিসহ ৫০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে দৈনন্দিন সুবিধা প্রদান করে আসছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র্র থেকে প্রদত্ত সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধিতার ধরন নির্ণয়, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, পুনর্বাসন, শ্রবণ, দৃষ্টি ও ভাষা শিক্ষণ, অটিজম বিষয়ক সেবা, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের সেবা, কাউন্সিলিং, সচেতনতা কার্যক্রম, মোবাইল থেরাপি, ভ্যান সার্ভিস ইত্যাদি। যেসব প্রতিবন্ধিতার সেবা দেওয়া হয় তাহলো অটিজম, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, মানসিক প্রতিবন্ধিতা, দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা, বাকপ্রতিবন্ধিতা, শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা, বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা, শ্রবণ-দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা, সেরিব্রাল পালসি, ডাউন সিনড্রোম, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতা ইত্যাদি। স্ট্রোক প্যারালাইসিস, বাতব্যথা, কোমর-ঘাড় ব্যথা, কনুই ব্যথা, মেরুদণ্ডে ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা, স্পন্ডালাইটিস, আর্থ্রাইটিস (অস্টিও/ রিমাটয়েড), মুখ বাঁকা, পায়ের গোড়ালী ব্যথা, স্পোর্টস ও আঘাতজনিত সমস্যা ইত্যাদি রোগের চিকিত্সা এখানে দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধীদের এ কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে হুইলচেয়ার-এ্যাডাল্ট/চাইল্ড, ট্রাইসাইকেল, অ্যালবো ক্রাচ, অক্সিলারী ক্রাচ, টয়লেট চেয়ার, স্টান্ডিং ফ্রেম, কর্ণার চেয়ার, ওয়াকার, ফোল্ডিং ওয়াকার, হিয়ারিং এইড ইত্যাদি।
পিরোজপুর শহরের মাছিমপুরে কবি আহসান হাবিব সড়কের একটি ভাড়া বাড়িতে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে বৃহস্পতি ও শুক্রবার বাদে সপ্তাহে পাঁচ দিন থেরাপি সুবিধাসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেবা প্রদান করে থাকেন।
এ কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা প্রিয়ংবদা ভট্টাচার্য জানান, কেন্দ্রে ১২ জনের পদ থাকলেও নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ফিজিওথেরাপি কন্সালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ও স্পীচ এন্ড ল্যাঙ্গুইজ থেরাপিস্টের চারটি পদ খালি। ফিজিওথেরাপি কন্সালট্যান্ট সপ্তাহে দু’দিন এখানে রোগী দেখেন। প্রতিষ্ঠানের বাগেরহাট কেন্দ্রের নিয়মিত চিকিত্সক হলেও পিরোজপুরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা. সংগ্রাম কান্তি কুন্ডু জানান, দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরনো রোগীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে নতুন নতুন রোগীরা আসছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন একটি প্রকল্পের অধীনে এ কার্যক্রম শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের একান্ত আগ্রহে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পে কেন্দ্রটির স্থায়ী স্থাপনা এবং ফাউন্ডেশনকে একটি অধিদপ্তরে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়।
এ কেন্দ্রে নিয়মিত থেরাপি গ্রহণকারী পিরোজপুরের প্রবীণ চিকিত্সক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে এ কেন্দ্রটি থেকে এ অঞ্চলের অনেক রোগী সেবা পাচ্ছেন।
