ভোলার মনপুরা উপজেলায় মেঘনায় ফের হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন বাহিনী তাণ্ডব চালিয়েছে। মেঘনা এখন আবারো উত্তপ্ত।
মঙ্গলবার ভোর রাতে উপজেলার উত্তর পাশের জাগলা চর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ইলিশ ধরা অবস্থায় ছয় মাঝিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনী।
সরেজমিনে জানা গেছে, সাধারণ জেলেরা মেঘনায় মাছ ধরতে সাহস পাচ্ছেনা। কয়েক লক্ষ টাকার জাল ও ট্রলার নিয়ে আতঙ্কে আছেন তারা। জেলে ও মাঝিদের আটক করে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। মুক্তিপণ না দিতে পারলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছ। ভয়ে ও আতঙ্কে পরিবারের লোকজন জলদস্যু বাহিনীর কাছে মুক্তিপণের টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আড়তদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কে রয়েছেন। কেউ ভয়ে মুখ খুলছেন না।
খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনকার মত মঙ্গলবার শাহজাহান মাঝি, ছালাউদ্দিন মাঝি, কাঞ্চন মাঝি, মোকতার মাঝি, হেলাল মাঝি ও শামিম মাঝি মনপুরা ইউনিয়নের উত্তর পূর্ব পাশের জাগলা চর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরার জন্য জাল ফেলে। সময় হলে জাল ট্রলারে উঠিয়ে দেশে চলে আসবেন। কিন্তু তাদের আর আসা হলোনা। হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন, কৃঞ্চ ও আরিফ বাহিনীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও বন্দুক তাক করে জেলেদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। পরে জিম্মি করে প্রতি ট্রলার থেকে একজন মাঝিকে হাতিয়ার একটি দুর্গম চরে আটকে প্রতি ট্রলার থেকে ৬০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন আড়ৎদার জানান, পরিবারের লোকজন ৪০ হাজার টাকা দিতে সম্মত হয়েছে। আমরা জলদস্যুদের কথা মত টাকা পাঠিয়ে দিব। না হলে শান্তিতে নদীতে মাছ ধরতে পারবনা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাতিয়ার কোস্টগার্ড এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। একদিকে নদীতে তেমন মাছ নেই আবার জলদস্যুদের তাণ্ডব। আমরা ঠিকমত ব্যবসা বানিজ্য করতে পারছিনা।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান বলেন, ‘ডাকাতি করে মাঝিদের আটক করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনেছি। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। আমি বিষয়টি দেখছি।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
