কালো প্যান্ট, হলুদ পোলো শার্ট আর মাথায় উল্টো করে পরা সাদা ক্যাপ- রিও ডি জেনেইরোর চিদাদে দেস আর্তেস থিয়েটারের মঞ্চে হেলেদুলে প্রবেশ করলেন উসাইন বোল্ট। সাংবাদিকরা অভিবাদন জানাতেই একটু গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘আরো জোরে তালি দেওয়া উচিত ছিল। তালিটা একটু দুর্বল ছিলো।’
সবাই হেসে ফেললেন। এটাই বোল্টের চরিত্র। শত চাপের মধ্যেও আনন্দ দিয়ে যান তিনি। জ্যামাইকান কিংবদন্তির কৌতুকটা বুঝতে তাই ব্যর্থ হলেন না কেউ।
দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বৃহত্ থিয়েটারটার পরিবেশ হাল্কা হয়ে এলো মুহূর্তেই। বোল্ট বলে চললেন, ‘আমি আনন্দ দিতে ভালোবাসি। কারণ মানুষের এটাই প্রয়োজন। আমি আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করি। এটাই আমার ব্যক্তিত্ব।’
বোল্টের দর্শনটা যেন এমন: হাস, খেল আর জয় কর। এই তো দুইদিন পরই ট্রাকে নামবেন। তার দিকে তাকিয়ে পুরো বিশ্ব। বলা হচ্ছে, দর্শকহীন অলিম্পিক আসরের তুরুপের তাস তিনি; বোল্টকে দেখতেই অর্থনৈতিক হতাশায় প্রতিদিন রাজপথে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ এসে জড়ো হবেন রিওর গ্যালারিতে। কিন্তু ‘ট্রিপল-ট্রিপল’র স্বপ্ন নিয়ে এসে ১৩ আগস্ট ১০০ মিটারেই যদি প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারেন! নাহ, বোল্টের কোনো চাপ নেই, ‘আমি দর্শকদের আনন্দ দিতে ট্রাকে নামি। জিততে চাই। ব্যাস এতটুকুই। আমি এটাই উপভোগ করি।’
বেইজিং অলিম্পিক থেকেই এমন আনন্দ দিয়ে জয় করে নিয়েছেন বিশ্ব। কিংবদন্তি আখ্যা পেয়ে গেছেন বেইজিং আর লন্ডনেই। আগেই জানিয়েছিলেন রিও’র পর আর অলিম্পিকের ট্রাকে দেখা যাবে না তাকে। পরের বছর লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর অবসর নিবেন তিনি। হাসি-ঠাট্টার মাঝেই সেটা আরো একবার স্মরণ করিয়ে দেন বোল্ট, ‘নিশ্চিতভাবে এটাই হতে যাচ্ছে আমার শেষ অলিম্পিক। আমি যথেষ্ট করেছি। নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছি। এটাই শেষ।’
মুখে হাসি নিয়ে আমুদে ভঙ্গিতেই কথা বলছিলেন জ্যামাইকান কিংবদন্তি। কিন্তু সামনে বসে থাকা সাংবাদিকদের বুকে কোথায় যেন একটু চিনচিন করে উঠলো। সংবাদ সম্মেলন শেষ হতেই দাঁড়িয়ে গেলেন একজন নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক। বোঝা যাচ্ছিল কিছুটা বিক্ষিপ্ত তার মন। নিকোলাই র্যামন বললেন, ‘আমার কোনো প্রশ্ন নেই। আমি সত্যিই আপনাকে ভালোবাসি।’ হলভর্তি আগন্তুকদের মাঝে এরপর গাইতে লাগলেন, ‘উসাইন বোল্ট। আমার প্রিয় মানুষ। আপনার গতি, পা আর স্টাইলের চেয়ে পছন্দের কিছু নেই। আপনি জিতবেন। আপনি স্বর্ণ জিতবেন।’
পরিচিত কথা। তারপরও কোথায় যেন একটু করুণ সুর বেজে ওঠে। টোকিওর এমন কোনো থিয়েটারে আর যে আকর্ণ বিস্তৃত হাসি হাসবেন না বোল্ট।
ইত্তেফাক / এ এন
