গুরুদাসপুরে নন্দকুঁজার সংযোগ নালা ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৬, ০১:০৮
কিনুরধর স্লুইসগেটের জলকপাট বন্ধ রাখা ও গুরুদাসপুরের নন্দকুঁজা নদীর সংযোগ নালাটি ভরাট করে দখল হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত প্রায় এক দশক ধরে চলছে এমন ভোগান্তি। নালাটির দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এখনো। নালার উত্সমুখ ভরাট করে চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া পয়েন্টের প্রায় এক হাজার মিটার দখল করে রেখেছেন স্থানীয়রা। এতে নালা দিয়ে নন্দকুঁজা নদীর পানি চলাচল পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। নালাটি দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নেই।
 
বন্যার পানিতে চলনবিলের বিলজলাশয় টৈ-টুম্বর হলেও ভরা বর্ষা মৌসুমে গুরুদাসপুরের প্রায় ১০টি বিলে পানির দেখা নেই। এতে ৬ হাজার হেক্টর জমির বোনা আমন ধান পানির অভাবে রোদে পুড়ে লালচে হয়ে গেছে। এসব বিলে উত্পাদিত পাট পচাতে হিমসিম খাচ্ছে কৃষক। আবার শুষ্ক মৌসুমে অতিবর্ষণে জমাট বাঁধা পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় রবিশস্য উত্পাদনও ব্যাহত হয়।
 
নন্দকুঁজা নদীর সংযোগ নালাটি চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া পয়েন্ট থেকে চলনালী-কান্দিপাড়া, কান্টাগাড়ি বিল হয়ে পাটপাড়া, সোনাবাজু, চাকলের বিলসহ পশ্চিমের খলিশাডাঙ্গা নদীতে একত্রিত হয়েছে। দক্ষিণের সিধুলী হয়ে চরকাদহ, ধারাবারিষা, চামটা বিলের সাথে একত্রিত হয়েছে। নন্দকুঁজা নদীর পানি ওই নালা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এসব বিলে চাষাবাদের পানির চাহিদা পূরণ হতো।
 
কৃষকরা জানান, পানির অভাবে বোনা আমন ধানের গাছ রোদে পুড়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে। পানি না পেলে এসব ধানে ফলন বঞ্চিত হবে কৃষক। এদিকে পাট পচাতে কৃষকের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বানের পানি বিলে প্রবেশ না করায় ভারি বর্ষণে খালে জমে থাকা পানিতেই গাদাগাদি করে পাট পচানো হচ্ছে। এতে পাটের রং নষ্ট হওয়ায় উত্পাদিত পাটের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক।
 
পাবনার চাটমোহর ও সিড়াগঞ্জের বিলগুলোতে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করার জন্য চাটমোহরের কিনুরধর স্লুইসগেটটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ওই স্লুইসগেটের সুফল থেকে গুরুদাসপুরের কৃষকরা বঞ্চিত। কান্টগাড়ি, ধারাবারিষা, চরকাদহ, চলনালী, সোনাবাজু, পাটপাড়া সিধুলীসহ প্রায় দশটি বিলে চাষাবাদের জন্য পানির চাহিদা পূরণ হতো নন্দকুঁজা নদীর ওই সংযোগ নালা থেকে। নির্বিঘ্নে বর্ষায় মৌসুমী ফসল ও শুষ্ক মৌসুমে রবিশস্য চাষাবাদ হতো। কিন্তু গত প্রায় এক দশক ধরে নালাটি দখল-দূষণ আর ভরাটের কবলে পড়ে সংকুচিত হওয়ায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে এসব বিলে ফসল উত্পাদনের ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে কৃষক।
 
নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, দখল-দূষণের আর ভরাটের কবলে পড়ে চলনবিলের প্রায় ১৬টি নদী ও বহু নালা মৃতপ্রায় হয়ে গেছে। যার ফলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা চাষাবাদের ক্ষেত্রে চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন। তিনি ওই নালাটি অবিলম্বে দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
 
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী বলেন, নালাটি দখল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 
গুরুদাসপুর উপজেলা কর্মকর্তা মোছা. ইয়াছমিন আক্তার বলেন, খোঁজ নিয়ে নালাটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 

ইত্তেফাক / এ এন