রিও অলিম্পিক গেমস শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা লড়াইয়ে নেমে যাচ্ছেন। শুটিংয়ে বাংলাদেশের বিদায় হয়ে গেছে বাছাইয়ে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি ৫০ জনের মধ্যে ২৫ নম্বরে। বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা যেসব খেলায় রিও অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ করেছে তাদের মধ্যে কোনো খেলায় আলোচনায় আসার মতো পারফরম্যান্স আশা করছেন না কেউ। অলিম্পিকে আসার আগে যে পরিবেশটা থাকে অলিম্পিকের মশাল জ্বলে ওঠার পর দেখা যায় বস্তবতার সাথে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়। অনেক হতাশার মধ্যেও বাংলাদেশের গলফার সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে গেমসে একটু আগ্রহ আছে। সিদ্দুিকর রহমান কী পারবেন আর কী পারবেন না তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে একটা সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন রিও অলিম্পিক গেমসে। আলোচনায় আছেন সিদ্দিকুর রহমান। এমনটা কখনো অলিম্পিকে ছিল না। সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে এরই মধ্যে গুঞ্জন আছে ভালো করবে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। আজ লড়াইয়ে নামার আগে তার যেটা প্রয়োজন সেটা আত্মবিশ্বাস। সিদ্দিকুরের আত্মবিশ্বাস ভালো আছে। ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম কোনো অলিম্পিক গেমেস আসার সুযোগ হয়েছে। তাও আবার রাজসিক প্রবেশ। বাংলাদেশের কোনো ক্রীড়াবিদের এমন সৌভাগ্য হয়নি। ওয়াইল্ডকার্ড ছাড়াই খেলতে নামছেন। সিদ্দিকুর জানিয়েছেন তার জন্য এটা এক বিরাট প্রাপ্তি। হবেই তো যে কখনো অলিম্পিক গেমসও দেখেনি। সে কি না সরাসরি অলিম্পিক গেমসে। রিও অলিম্পিকে সিদ্দিকুর যেন বাড়তি সম্মানও পাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদ কর্মকর্তাদেরকে যারা ওয়াইল্ডকার্ডের চশমায় দেখতেন তারা এখন সুর বদলেছেন। সিদ্দিকুরকে দেখলে চেয়ার ঠেলে দিচ্ছেন সামনে। আর এটাকেই রাজসিক সম্মান হিসেবে দেখছেন সিদ্দিকুর। তবে সিদ্দিকুরের মনে এসব নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। এখন কোর্সে নামার লড়াই।
অনেক সংগ্রামী জীবন তার। লড়াই করে করে আজ ক্রীড়াবিশ্বের সর্বোচ্চ আসরে লড়াইয়ে নামছেন তিনি। সব মনোযোগ ভালো করতে হবে সেরা কিছু করতে হবে। সিদ্দিকুর বলেছেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে যে অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে তার সব কিছুই ঢেলে দিতে আমি প্রস্তুতি নিয়েছি।’
সিদ্দিকুর মুখে কিছু বলেননি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন ব্রাজিলের মতো দূরের দেশে খেলতে হলে আরো আগে আসা উচিত ছিল। কারণ বাংলাদেশ এবং ব্রাজিলের সময়ের মধ্যে অনেক বড় ব্যবধান রয়েছে। ব্রাজিলে পৌঁছে একজন সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণভাবে মানিয়ে নিতে সাত দিন প্রয়োজন হয়। সেখানে একজন ক্রীড়াবিদ আসবেন লড়াই করতে। তাহলে তার তো আরো আগে আসা উচিত ছিল। বুঝতে হবে এটা তো মাইন্ড গেম। মনোসংযোগের খেলা। চুলচেরা বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। অভিভাবকতুল্য গলফ সংশ্লিষ্টরা এমনটা মনে করলেও এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে নারাজ সিদ্দিকুর।
প্রসঙ্গ উঠল সিদ্দিকুরের রিও অলিম্পিকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে সময় লেগেছে। সব তর্ক-বিতর্ক, যুক্তি উপস্থানের দিকে কান দিতে নারাজ দেশের তারকা গলফার। ব্রাজিলে এসে মানিয়ে নিতে তিনি সব চেষ্টাই করেছেন বলে জানিয়েছেন। প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলন করেছেন। সিদ্দিকুর সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রস্তুত আছেন।
তবে এত দিন সিদ্দিকুর যে আবহাওয়ায় অনুশীলন করেছেন এখন আবহাওয়া পুরোই বিপরীত। গতকাল বাংলাদেশের সময় যখন বিকাল তিনটা। তখন থেকেই ব্রাজিলের রিওতে আকাশ ভারী। রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল ব্রাজিলের সময় সকালেও আকাশ ছিল মেঘলা। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাশ ভারী। বিখ্যাত কোপাবানা বিচে সকাল থেকে সাধারণের আনাগোনা কম বৃষ্টির কারণে। বিচের ওপর অলিম্পিক রিংয়ে সারাক্ষণ সেলফি তোলার ছবি ঢাকার পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। সেখানে এখন কেউ আসছে না, হয় তো বৃষ্টির জন্য। এমন আবহাওয়া থাকলে গলফে সিদ্দিকুরের পারফরম্যান্স কেমন হবে তা নিয়ে একটা বাড়তি আশঙ্কা আছে। বাংলাদেশের পাঠক যখন এই রিপোর্ট হাতে পাবেন তার আগেই গলফার সিদ্দিকুর রহমান লড়াইয়ে নেমে যাবেন। কারণটা তো জানাই সবার, সময়ের পার্থক্য।
ইত্তেফাক/ এ এন
