এক বছরে কাজ হয়নি এক চুলও!

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ২২:২১

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বলেছিলেন, চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোডের কাজ ৭৫ ভাগের বেশি শেষ। পরের মাসে যান চলাচলের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সেটি খুলে দেয়া হবে। একই সময়ে প্রকল্প ও উপ-প্রকল্প পরিচালক ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। অথচ এক বছর পর এসে তারা এখনো বলছেন প্রকল্পের সেই ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে! একারণে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি গত এক বছর ধরে একচুলও কাজ এগোয়নি? নাকি কর্মকর্তারা ওই সময় মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন?

এ প্রসঙ্গে জানতে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে ফোন করলেও পাওয়া যায়নি। তবে  প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস দাবি করেছেন, ‘কিছু অংশের কাজ বাকি থাকলেও মূল সড়কের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জুনের মধ্যেই মূল সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফিডার (শাখা) রোডের নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। এ পর্যন্ত ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।’

গত এক বছর টানা কাজ করার পরও কাজের চুলপরিমাণ ‘অগ্রগতি’ নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাজটা রিমোট এলাকায় এবং অনেক কঠিন। বাঁধের লেয়ার ঠিক না থাকলে পুনরায় কাজ করতে হচ্ছে। এ জন্য সময় ব্যয় হচ্ছে। পুরো বছর কাজও করা যায়নি। ৪/৫ মাস কাজ হয়েছে।’ তবে আগামী জুনের মধ্যে ওই সড়কে যান চলাচলের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান তিনি।

সিডিএ’র পক্ষ থেকে জুন মাসে যান চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। চার লেনের সড়কটির অনেক স্থানে এখনো পিচ ঢালাই বাকি আছে। রাসমনি ঘাট এলাকার টোলরোড হয়ে নির্মাণাধীন পতেঙ্গামুখী রিংরোডে এখনো সড়কের মাটি ভরাটের কাজ চলছে। আইসি ব্রিজ-২ এর আবদুল্লাহ পাড়া এলাকা থেকে আনন্দবাজার এলাকাংশে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ হয়েছে। সেখান থেকে ৪টি অংশে এরূপ কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হলেও কোথাও কোথাও এখনো মাটি ভরাট ও কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।

প্রকল্পের অধীনে রাসমনিঘাট থেকে ফৌজদারহাটমুখী নির্মাণাধীন রিং-রোডে এখনো মাটি ভরাট শেষ হয়নি। সেখানকার যেসব জমি অধিগ্রহণ করা হবে সেগুলো এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। জমি মালিকদের পুনর্বাসন ছাড়া তারা নিজেদের ভূমি ছাড়বে না। সিডিএ ইতিমধ্যে তাদেরকে উচ্ছেদ করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। স্থানীয়রাও বলছেন, যেভাবে কাজ চলছে তাতে চলতি বছর কাজ শেষ হয় কিনা সন্দেহ আছে।

প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের পাশাপাশি এ প্রকল্পের অধীনে রয়েছে শহর রক্ষা বাঁধ, মেরিন ড্রাইভ ও ১১টি স্লুইস  গেট। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরের যানজট হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিডিএ’র প্রকৌশলী ও উপ-প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশ বলেন, লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে ফৌজদারহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত নির্মাণাধীন এই আউটার রিং রোডটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহূত হবে।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় এবং ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৮৬৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও পরে দুইবার সংশোধন করে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ১ হাজার ৭২ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ও জাইকা দিচ্ছে ৭০৬ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি নগরের দক্ষিণ কাট্টলী থেকে সংযোগ রোডের মাধ্যমে স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে সাগরিকায় পোর্ট কানেকটিং রোড ও পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন টানেলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য সাগরিকা অংশে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। ফিডার রোডের পাশাপাশি সড়ক পারাপারে থাকবে ১০টি ওভারব্রিজ।