নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাহনা ও আধুরিয়া এলাকার অর্ধশতাধিক পুকুরসহ মাহনার বিলের কয়েক কোটি টাকার মাছ কারখানার কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্যের বিষে মরে ভেসে ওঠেছে।
শুক্রবার সকাল থেকে পুকুর ও বিলের মাছ মরে ভেসে ওঠতে শুরু করে। সকাল ১০টার পর থেকে পানিতে থাকা ব্যাঙ, গুইশাপ, পোকা-মাকড়ও মরতে থাকে। যে কারণে পুকুর ও বিলের পানিতে নামতেও মানুষ ভয় পাচ্ছে।
মাহনা গ্রামের মৎস্য খামার মালিক জাকির হোসেন জানান, স্থানীয় ফকির কটন, স্পিনিং, ডাইং এন্ড সাইজিং মিল ও রকি নিটিং এন্ড ডাইং এইচপি কেমিক্যালসহ বেশ কয়েকটি ডাইং মিলের ফেলা বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে অর্ধশতাধিক পুকুরসহ মাহনার বিলের মাছ মরে ভেসে ওঠেছে। এবার তিনি সাড়ে চার বিঘা পুকুরে প্রায় দুই লাখ টাকার মাছের পোনা ছেড়েছেন। এখন পুকুরের মাছ বড় হয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের হয়েছিল। শুক্রবার সকালে পুকুরে খাবার দিতে গিয়ে দেখেন পোনা মাছ মরে ভেসে ওঠছে। বড় কারের মাছগুলোও পানিতে হামাগুড়ি খাচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে বড় আকারের মাছগুলো মরতে শুরু করে। এছাড়াও মাহনা এলাকার আমির হোসেন, ছোবহান মিয়া, শহিদুল্লাহ, ইদ্রিস আলী, খোরশেদ আলম, আধুরিয়া এলাকার গোলজার হোসেন, মনির হোসেন ও ছোবহান মিয়ার পুকুরের মাছও মরে ভেসে ওঠেছে। মৎস্য খামারীরা রূপগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকেও এ ঘটনা জানিয়েছেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার বসাক বলেন, ‘মাহনা ও আধুরিয়া এলাকার পুকুর ও বিলের মাছ বিষাক্ত কেমিক্যালের মিশ্রিত বর্জ্য পানির কারণেই মরে ভেসে ওঠেছে। কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি ফেলার কারণে বিল ও পুকুরের পানির অক্সিজেন কমে গেছে। যে কারণে ছোট বড় মাছসহ পানিতে বাস সকল জীব মরে যাচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’
উল্লেখ্য, রূপগঞ্জ অংশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ভুলতা-আড়াইহাজার সড়কের উভয়পাশে শতাধিক স্পিনিং, সাইজিং ও ডাইং কারখানা রয়েছে।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
