আরো ১০ বছর ক্রিকেট খেলতে চান আশরাফুল

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৬, ১৫:৫৪
মাত্রই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। তবে ফিরতে পারছেন না জাতীয় দল কিংবা বিপিএলে। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো ২ বছর। এখন ৩০ ছুঁই ছুঁই, তখন কি আর জাতীয় দলে ফেরা হবে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে শাস্তি ভোগ করা মোহাম্মদ আশরাফুলের?
 
তবে নিজে আরো ১০ বছর ক্রিকেট খেলতে চান বলে জানালেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া সাক্ষাতকারে এমন আশার কথাই শোনালেন আশরাফুল।
 
বাংলাদেশে প্রায় সব ক্রিকেটই কোনো না কোনোভাবে বিসিবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর বিসিবি সংশ্লিষ্ট কোনো ক্রিকেটে খেলতে পারবেন না আশরাফুল। তাই এই তিন বছর দূরে গিয়েই ক্রিকেট খেলতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম এই সুপারস্টারের। তবু ক্রিকেট ছাড়েননি, ফেরার অপেক্ষায় উদগ্রীব আশরাফুল। সেজন্য ২০১৪ এবং ২০১৫ সাল ক্রিকেট খেলেন যুক্তরাষ্ট্রে আর ২০১৬তে এসে খেলেন যুক্তরাজ্যে।
 
সেই নিষেধাজ্ঞা কাটলো ১৩ আগস্ট শনিবার। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার দ্বার এখন উন্মুক্ত তার জন্য। তবে ফ্র্যাঞ্জাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট কিংবা জাতীয় দলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো দুই বছর।
 
তখন তার সামনে হাজির হবে নতুন দুই চ্যালেঞ্জ। বয়স হবে ৩২, এই বয়সে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন করে পথচলা নিশ্চিতভাবেই চ্যালেঞ্জিং তার উপরে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে হতে হবে এর মুখোমুখি।
 
ক্রিকইনফোকে দেয়া সাক্ষাতকারে আশরাফুল বলেন, ছোট ছোট ভেন্যুতে খেলা আমার জন্য ছিল নতুন এক অভিজ্ঞতা। কুলাউরা, বড়লেখা, সাতক্ষীরায় ক্রিকেট খেলেছি আমি। আমি যখন ক্রিকেট শুরু করি, তখন শুনতাম এমন ছোট টুর্নামেন্টে খেলেই আলোয় এসেছেন বুলবুল ভাই(আমিনুল ইসলাম বুলবুল) এবং সুজন ভাইরা (খালেদ মাহমুদ সুজন)। আর আমি খেললাম ক্যারিয়ারের শেষে এসে।
 
আশরাফুল জানেন এখন ক্রিকেটে ফেরা তার জন্য অনেক কঠিন হবে। তবে তিনি আরও দশ বছর ক্রিকেট খেলতে চান।  আর এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ উল হককে অনুপ্রেরণা মানছেন তিনি।
 
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কন্ডিশনে একজন ক্রিকেটার ৩০ বছর পেরিয়ে গেলে তাকে টিকে থাকতে সংগ্রাম করতে হয়। আমাকে দীর্ঘ সময় ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হয়েছে, যা এদেশের আর কোনো ক্রিকেটারকে থাকতে হয়নি। চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমি ফিরতে চাই। আরও দশ বছর ক্রিকেট খেলতে চাই। পাকিস্তানের মিসবাহ ৪২ বছর বয়সে এখনও খেলছে। তাকে অনুকরণ করতে চাই।’
 
এজন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করতে হবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
 
২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট প্রাথমিকভাবে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আশরাফুল। পরে আপিলের কারণে তা নেমে আসে স্থগিতাদেশ সহ তিন বছরে। ১৩ আগস্ট ২০১৬ শেষ হলো সেই নিষেধাজ্ঞা।
 
আশরাফুল বলেন, ‘সম্প্রতি তামিম ইকবাল তার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছে তারা আমার ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করি বিসিবির অধীনে থেকে বোর্ডের অবকাঠামো সুযোগ গুলো নিতে পারবো। গত তিন বছর খুব কষ্টে কেটেছে। এখন সেই লেভেল থেকে বেরুতে হবে। দুই বছর কোচ সারোয়ার ইমরান স্যারের অধীনে নিজেকে পস্তুত করেছি। যদি সম্ভব হয় বিসিবি যেন আমাকে বিসিএল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়। সেই অপেক্ষাতেই রয়েছি। ক্রিকইনফো
 
দৈনিক ইত্তেফাক/এমএইচ