মিরসরাইয়ের উপকূল ও ফেনী-মুহুরিতে অবাধে গলদা চিংড়ির পোনা সংগ্রহ চলছে। বঙ্গোপসাগরের মিরসরাই-সীতাকুণ্ড উপকূল থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের শেষপ্রান্ত ফেনী ও মুহুরি নদীর মোহনা তথা মুহুরি প্রকল্প পর্যন্ত শত কি.মি. উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন নদী ও সংযোগ খাল থেকে অবৈধভাবে সরকারি নিষেধ অমান্য করে প্রায় শত কোটি টাকার গলদা চিংড়ির রেণু পোনা শিকার করছে অসাধু জেলে এবং ব্যবসায়ীরা। দিনেরবেলায় বিকাল তিনটা ও রাতে আড়াই থেকে তিনটার মধ্যে বঙ্গোপসাগর থেকে জোয়ার আসে মিরসরাইয়ের উপকূল হয়ে ফেনী নদীর মুহুরি প্রজেক্ট এলাকায়। এ সময় জোয়ারের পানিতে বঙ্গোপসাগর থেকে ভেসে আসে চিংড়ি, কোরালসহ নানা প্রজাতির মাছের পোনা। জোয়ার আসার পর জেলেরা মশারি দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের জাল, নেট জাল, ছাকনি ও চাদর দিয়ে পানি ছেঁকে এ পোনা শিকার করে স্রোতের মধ্যে মাছের রেণু ধরে। জোয়ার যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা রেণু ধরে পাত্রে ভরে। ভাটায় জোয়ারের পানি নেমে গেলে পরবর্তীতে তারা পাত্র থেকে মাছের রেণু প্লেটে নিয়ে গলদা চিংড়ির রেণু বাছাই করে। ওই সময় তারা গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু নিয়ে বাকিগুলো নদীর পাড়ে ফেলে দেয়। এতে করে মারা যাচ্ছে হাজারও প্রজাতির মাছের রেণু। প্রতি জোয়ারে একজন জেলে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ পর্যন্ত গলদা চিংড়ির রেণু ধরতে পারেন। জেলেরা প্রতি হাজার গলদা চিংড়ির রেণু পোনা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন তিন থেকে চার হাজার টাকায়। এই পোনা সংগ্রহ করার জন্য দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও এখানে আসেন। পাইকাররা ড্রাম ও বড় পাতিল পোনাভর্তি করে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ে আড়তদারের কাছে প্রতিটি পোনা বিক্রি করে পাঁচ থেকে ছয় টাকা দরে। পোনা সংগ্রহকারীদের বেশিরভাগই পেশাদার জেলে নয়। এরা গলদা চিংড়ির রেণু সংগ্রহের জন্য পাইকারদের বেতনভুক্ত কর্মচারী। পাইকাররা রেণু সংগ্রহের জন্য মুহুরি প্রজেক্টের বাঁধের পশ্চিম পাশে ঘর তৈরি করেন তাদের জন্য। যাতে জোয়ার আসার সঙ্গে সঙ্গে পোনা সংগ্রহ করা যায়। পোনা ধরার মৌসুম শেষ হয়ে গেলে তারা আবার নিজ আবাসস্থলে চলে যান।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিবছর উপজেলার সাহেরখালী, মঘাদিয়া, বগাচতর, ইছাখালীর উপকূলীয় এলাকার চৈত্র থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত চলে মত্স্য চিংড়ি রেণু আহরণ। প্রতি মৌসুমে চিংড়ির পোনার উপর এখানে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয় নিয়মিত।
ইত্তেফাক / এ এন
