সরিষাবাড়ীর সকল মানুষকে কাঁদিয়ে বঙ্গবাহাদুর নামে সেই হাতিটি মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেল না ফেরার দেশে। হাতিটি দীর্ঘ ৮০ বছর পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, নদী–নালা, খাল –বিল, ঝড়-তুফান, রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে থাকলেও অবশেষে হেরে গেলো বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীদের কাছে। তাদের অবহেলার কারণেই বঙ্গ বাহাদুরের মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন।
হাতিটির মৃত্যুতে এলাকার সকলের চোখেই হারানো ব্যথার জল ঝরছে। সকলের মুখেই একই অভিযোগ বন বিভাগের কর্মীদের অবহেলা আর অযত্নে হাতিটিকে হারাতে হলো।
জানা গেছে, সাড়ে ৪ টন ওজনের হাতিটি গত ২৮ জুন ভারতের আসাম রাজ্য থেকে বন্যার জলে ভেসে ভেসে বাংলাদেশের দীর্ঘ সাড়ে ৮ শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী হয়ে উত্তাল রাক্ষুসী যমুনা সাঁতরিয়ে রংপুরের ফুলছড়ি, বগুড়ার সারিয়াকান্দী, জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ও সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল পেরিয়ে আসে। অবশেষে গত ২৮ জুলাই সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর গ্রামে এসে হাতিটি হাজির হয়। চারদিক বন্যার পানিতে ডুবে থাকায়, ভেসে বেড়ায় বঙ্গ বাহাদুর সরিষাবাড়ীর এ গ্রাম থেকে সে গ্রামে এতটুকু ঠাঁই পাওয়ার জন্য। কিন্তু না কোথাও ঠাঁই হয় না তার। এ ভাবেই ১ মাস ১৫ দিন হাতিটিকে থাকতে হয় পানিতেই। মাঝে মাঝে শহরের পাকা রাস্তায় উঠে বাহাদুরের মত চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরক্ষণে মানুষের চাপে এবং হৈ-হুল্লোড়ে আবার ফিরে যেতে হয়েছে পানিতে। প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য কিছু খেতে পেলেও ছিল না তার কোন রাগ অভিমান। সারাদিন অভুক্ত থেকেও নিরবে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতো যত্রতত্র।
