গুলশান হামলায় জড়িত মারজানের আসল নাম নুরুল ইসলাম। তবে চবি ক্যাম্পাসে কেউ তাকে এই নামে চিনতো না। বন্ধু ও সহপাঠীদের কাছে সে পরিচিত ছিল ফাহাদ নামে। গত পরশু মারজানের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে চবি প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তখন চবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসন নিশ্চিত হয় যে কথিত মারজান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, মারজান পাবনার একটি মাদ্রাসা থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা পাস করেন। এরপর ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে নুরুল ইসলাম নামে আরবি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় বর্ষের একটি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেন মারজান। ১০টি কোর্সের ৬টিতে অংশ নিলেও বাকি পরীক্ষাগুলো তিনি আর দেননি। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে ৬টি কোর্সে ভালো ফলাফল করার সুবাদে মারজান তৃতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আর চবিতে ফিরে আসেননি এবং তৃতীয় বর্ষে ভর্তিও হননি। চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দাবি করেছেন, তৃতীয় বর্ষে ভর্তি না হওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মেই নুরুল ইসলাম ওরফে মারজানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব আর বহাল নেই।
প্রেস ব্রিফিংয়ে চবি উপাচার্য বলেন, মারজান নামে চবি’র আরবী বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি নুরুল ইসলাম নামে আরবি বিভাগে যে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল এখন সেই ‘মারজান’ নাম ব্যবহার করে জঙ্গি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। উপাচার্য জানান, নুরুল ইসলাম কয়েকটি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনালে জিপিএ-২ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র ন্যূনতম জিপিএ-১.৭৫ পেলে সে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারে। তারই ধারাবাহিকতায় সে দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বর্ষে পুনঃ ভর্তি হতে হয়। কিন্তু সে পুনঃ ভর্তি না হওয়ায় তার ছাত্রত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক নিয়মে বাতিল হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়।
চবি’র আরবি বিভাগ থেকে শতাধিক জঙ্গিবাদী বই উদ্ধার
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরি থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদী, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও জঙ্গিবাদে উস্কানীমূলক শতাধিক বই, লিফলেট এবং সিডি জব্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোথাও এমন উস্কানিমূলক কিছু পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে তত্ক্ষণাত্ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও জঙ্গিবাদে উস্কানিমূলক এমন কোনো বিষয়ে ছাড় দেয়া হবে না।
