১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার ভুয়া জন্মদিনে কেক না কাটার ঘোষণাকে খালেদা জিয়ার নতুন ধরনের ভাঁওতাবাজি ও জাতির সাথে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাবেক পরিবেশমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ। বুধবার ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা এবং খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে ভাঁওতাবাজির প্রতিবাদে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড.হাছান মাহমুদ এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন,যারা বিএনপি নেত্রীকে এবারের ১৫ আগস্টে কেক না কাটার জন্য সাধুবাদ দিয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলবো খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট তার মিথ্যা জন্মদিনে কেক না কাটার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির জন্য। তার ঘোষণায় কোথাও বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কেক না কাটার ঘোষণা ছিল না। প্রকৃতপক্ষে কেক না কাটার ঘোষণা বিএনপি নেত্রীর জাতির সাথে নতুন প্রতারণা।খালেদা জিয়া এতদিন যে গর্হিত কাজ করে জনগণের সাথে ভাঁওতাবাজি করেছেন তার জন্য যদি তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চান তাহলেই বুঝবো বেগম জিয়ার বোধোদয় হয়েছে।
তিনি বলেন, বলা নেই কওয়া নেই খালেদা জিয়া হঠাৎ করে ১৯৯২ সাল থেকে ১৫ আগস্টের মতো এমন শোকাবহ দিবসে তার মিথ্যা জন্মদিন পালন করা শুরু করলেন।অথচ বিয়ের কাবিননামা,মেট্রিকের মার্কশীট,পাসপোর্টে তার ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ দেওয়া আছেন। প্রকৃতপক্ষে ১৫ আগস্ট জন্মদিনে কেক কেটে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের উৎসাহ জোগান এবং তার এ মিথ্যা জন্মদিন উদযাপন ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা। অন্যকোন দেশ হলে খালেদা জিয়া জন্মদিনের তারিখ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে অনেক আগেই রাজনীতি করার বৈধতা হারাতেন।
জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন,খালেদা জিয়ার শাসনামলেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তখন জঙ্গিবাদ এতোটাই সংগঠিত ছিল যে একযোগে একই সময়ে দেশের পাঁচ শতাধিক স্থানে বোমা হামলা হয়েছিল। হাওয়া ভবনের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ শে আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। সেদিন ঘটনাস্থলে নিরাপত্তায় নিয়োজিত কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে সাসপেন্ড করাতো দূরের কথা কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি। উপরন্তু মিথ্যা চার্জশীট দিয়ে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছিল।
হাছান মাহমুদ তার বক্তব্যে আরো বলেন, জঙ্গিবাদ একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। এর প্রভাব কিছুটা হলেও বাংলাদেশে পড়েছে।কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গিবাদ দমনে অনেক বেশি সফলতা দেখিয়েছে।
অরুণ সরকার রানার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ,মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক,আব্দুল হাই কানু প্রমুখ।
