সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাইপাস সার্জারির পর ভাল আছেন। অপারেশনের পর তিনি এখন শংকামুক্ত। তার আইওবিপি মেশিন খুলে ফেলা হয়েছে এবং বাকি সব প্যারামিটার ভাল আছে। আগামী ৩/৪ দিন পর তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে।
সিঙ্গাপুরে ওবায়দুল কাদের এমপির চিকিত্সা সমন্বয়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক এবং নিওরোলজিস্ট প্রফেসর ডা. আবু নাসের রিজভী গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় মেডিকেল বোর্ডকে উদ্ধৃত করে হাসপাতাল লবিতে উপস্থিত পরিবারের সদস্য ও অন্যান্যদের এ তথ্য জানান। উল্লেখ্য, গত বুধবার মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামির নেতৃত্বে কাদেরের বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।
ডা. রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা এখন ভালো। অপারেশন পরবর্তী সংকটও কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। এক দিনের মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের শরীরে লাগানো ট্রাকিয়াল টিউবটিও খুলে নেওয়া হবে বলেই তাকে বলেছেন তার চিকিত্সকরা। এরপরই তাকে কেবিনে নেওয়া হবে। সার্জারির পর একজন রোগীর শরীরে ট্রাকিয়াল টিউব লাগানো হয়, যার মাধ্যমে তার শ্বাসযন্ত্র পর্যাপ্তভাবে অক্সিজেন পায় ও কার্বনডাইঅক্সাইড ছাড়তে পারে।
আরও কিছুদিন হাসপাতালে রেখে শারীরিক অবস্থার রিভিউ করা হবে জানিয়ে রিজভী আরও বলেন, এ জন্য এক সপ্তাহ বা দশদিনের মতো কেবিনে রেখে হোটেল অথবা বার্থে পাঠানো সম্ভব হবে। এর সপ্তাহ খানেক পরে একটি ফলোআপ হবে। আর সেটি ভালোভাবে সম্পন্ন হলে মধ্য এপ্রিলে তাকে দেশে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
গত ৩ মার্চ ভোররাতে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। সেখানে দ্রুত এনজিওগ্রাম করা হলে তার হূিপণ্ডের রক্তনালিতে তিনটি বড় ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের (রিং পরানো) মাধ্যমে দ্রুত অপসারণ করেন চিকিত্সকরা। তাকে দেখতে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল হাসপাতাল লবিতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ওবায়দুল কাদেরের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট ইসরাতুন্নেসা কাদের, অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল এমপি, সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, কাদেরের ছোটভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মীর্জা, আওয়ামী লীগ নেতা ইসহাক আলী খান পান্না, নাইমুজ্জামান মুক্তা, ঢাকাস্থ নোয়াখালী জেলা সমিতির সভাপতি মো. শাহাবুদ্দীন, সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওয়েলফেয়ার অফিসার মো. আল আমিন হোসেন প্রমুখ।
