প্রয়োজনীয় স্মার্ট ডিভাইসগুলোকে একসাথে একটামাত্র ডিভাইসে ব্যবহার করা যাবে, এমন এক সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা এর বাংলাদেশি গবেষক রাগিব হাসান এবং রাসিব খান। মাত্র ৫০০-৮০০ টাকায় এই ডিভাইস বাজার থেকে কেনা যাবে।
তারা একটি ক্লাউড জ্যাকেটের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন যার মধ্যে ১০ নোডের একটি ক্লাউড ডেটা সেন্টার রয়েছে। ১০ টি রাস্পবেরি পাই বোর্ড, তিনটি পাওয়ার ব্যাঙ্ক, একটি ছোট রিমোট টাচ স্ক্রিন ডিসপ্লে আর একটি পুরাতন জ্যাকেট দিয়ে তারা এই প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন।
রাগিব হাসান ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা, বার্মিংহামের কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, রাসিব খান এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট ডক্টরাল গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন সম্প্রতি। রাগিব হাসান বলেন, যদি আপনি এখন একটি স্মার্টওয়াচ, স্মার্টফোন, এক্সেরসাইজ ট্র্যাকার ও স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনাকে পৃথক পৃথক দামি ডিভাইস কিনতে হবে। তাহলে আপনি এমন কম্পিউটেশনাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করবেন না যেটি আপনার বিভিন্ন বহন ও পরিধান যোগ্য ডিভাইস সমর্থন করবে? তাহলে এই বিশেষত্বসহ একটি ডিভাইস খুব সস্তা হয়ে যাবে।
বর্তমানে গ্রাহকরা প্রয়োজন মেটাতে হাই পারফরম্যান্স প্রসেসর ও র্যাম সমৃদ্ধ ডিভাইস কিনতে চায়। যদি স্মার্টওয়াচ, স্মার্টফোন, এক্সের্সাইজ ট্র্যাকার ও স্মার্ট গ্লাস কিনতে ২ থেকে ৩ হাজার ডলার খরচ হবে। ক্লাউড জ্যাকেট প্রোটোটাইপের ১০ গিগাবাইট র্যাম থাকবে যেখানে গড় স্মাটফোনের র্যাম ১ থেকে ৩ জিবি। আর মেমরির ধারণক্ষমতার দিক দিয়ে প্রতিটি রাস্পবেরি পাই চিপের ধারণক্ষমতা ৩২ জিবি, সেই হিসেবে মেমরির পরিমাণ হবে ৩২০ জিবি। শুধু তাই নয় বহনযোগ্য ডাটা সেন্টারে নিরাপদে তথ্য রাখতে পারবেন।
রাগিব হাসান তার ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্টে ব্যাখ্যা করেন, এর মাধ্যমে অনেক ইন্টারেস্টিং কাজ করা সম্ভব। একটা আইফোনের দাম কতো? ৫০ হাজার টাকা অন্তত, তাই না? আইওয়াচ? অন্তত ৪০ হাজার টাকা তো হবেই। এভাবে দেখেন, একটা স্মার্ট ফোন, একটা স্মার্ট ওয়াচ, একটা ফিটবিট এরকম স্মার্ট ডিভাইস যতগুলা সাথে রাখেন, সবগুলার জন্যই হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। কারণ হলো এই ডিভাইসগুলাকে স্মার্ট করতে গিয়ে প্রতিটাতেই খুব পাওয়ারফুল প্রসেসর, অন্যান্য চিপ বসাতে হয়েছে। কিন্তু আমার ক্লাউড জ্যাকেটের মাধ্যমে পুরা জিনিসটার দাম ৫০০-৮০০ টাকার মধ্যে নামানো সম্ভব।
IMG0
স্মার্টফোনটাকে ক্লাউডে একটা ভার্চুয়াল মেশিনে রান করানো যায়, আর আপনার হাতে কেবল একটা এলসিডি ডিস্প্লে (আর খুব অল্প ক্ষমতার একটা প্রসেসর) থাকলেই চলবে। ফোনের সবকিছু ক্লাউডে প্রসেসিং হবে, কেবল ডিস্প্লেটা আপনার হাতে। ঘড়ির ক্ষেত্রে, অথবা আপনার পরিধেয় আর যেকোনো অয়ারেবল ডিভাইসের ক্ষেত্রেই এই সিস্টেম করা যায়। ফলে খুব অল্প খরচে আপনি স্মার্ট ডিভাইস নিয়ে চলতে পারেন এক গাদা। আর আইফোন সকালে ব্যবহার করে আর ভালো লাগছেনা? কোনো সমস্যা নাই, একটা বাটন চেপে মুহূর্তেই আপনার আইফোনটাকে অ্যান্ড্রয়েড বানিয়ে নিতে পারবেন ভার্চুয়াল মেশিন সুইচ করে।
ইত্তেফাক/এসএসএ।
