এক সময় মোবাইল ফোন উৎপাদন ও জনপ্রিয়তায় ইন্ডাস্ট্রির সম্রাট ছিল নকিয়া। কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় ও অ্যাপল-স্যামসাংয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বাজার থেকে প্রায় বিদায় নিতে বসেছিল ফিনল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানটি। অ্যান্ড্রয়েডের যুগে উইন্ডোজ ফোন তৈরি করে জনপ্রিয়তা ফেরাতে ব্যর্থ নকিয়া ফের গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বাজার দখলের লড়াইয়ে নামছে।
চলতি বছরের মে মাসে প্রাথমিকভাবে নকিয়া ঘোষণা করে, অ্যান্ড্রয়েডের জগতে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট নিয়ে তারা ফিরছে। এবার আরও স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট করে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঠিক কবে থেকে বাজারে মিলবে নকিয়ার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন!
চীনে নকিয়ার জয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের প্রেসিডেন্ট মাইক ওয়াং জানিয়েছেন, চারটির মধ্যে নকিয়ার তিনটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট তৈরির কাজ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
তার দাবি, চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে, অর্থাৎ ২০১৬ এর ৪র্থ কোয়ার্টারে বাজারে মিলবে নকিয়ার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন।
২০১৪ সালে নকিয়া তাদের হ্যান্ডসেট তৈরির ব্যবসা ৭.২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় মাইক্রোসফট-কে। চুক্তি মোতাবেক ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত স্মার্টফোন উৎপাদনের জগতে পা রাখতে পারবে না নকিয়া। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতেই হইহই করে অ্যান্ড্রয়েড মার্কেটের দখল নিতে চায় নকিয়া।
নকিয়া ব্র্যান্ডের আওতায় স্মার্টফোন তৈরির গ্লোবাল লাইসেন্স এখন এসেছে এইচএমডি গ্লোবাল নামে ফিনল্যান্ডের এক প্রতিষ্ঠানের হাতে। ফোন তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন প্রধান বিপণন কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন নকিয়া ও রোভিও-র প্রাক্তন কর্মী পেক্কা রান্তালা।
জুলাই মাসে গুঞ্জন শোনা যায়, ৫.২ ও ৫.৫ ইঞ্চির দুটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে নকিয়া। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ এজ ও এস ৭-এর চেয়ে কোনও অংশেই কম হবে না হ্যান্ডসেট দু’টি, দাবি একটি চীনা সংবাদপত্রের। দু’টি মডেলই ধুলো ও জল প্রতিরোধক হবে বলে সূত্রের খবর। রেজ্যুলেশন হতে পারে ২কে বা কিউ এইচ ডি। মডেলগুলোর একাধিক ছবিও ফাঁস হয়েছে ইন্টারনেটে। যদিও ১৫১ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে।
ইত্তেফাক/এএম
