‘মেট্রিক পরীক্ষা’র অপেক্ষায় তাসকিন

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৬, ২০:১২
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বাজ পড়ার মতো খবরটা পেয়েছিলেন। তিনি এবং সারা বিশ্ব অবাক হয়ে শুনেছিলো, তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক। এরপর আরও বিস্ময় নিয়ে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গিয়েছিলো তার নির্দিষ্ট একটি ডেলিভারি অবৈধ। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞা নিয়েই কাটছে তাসকিনের জীবন। 
 
অবশেষে আলোর দুয়ার দেখছেন। তাসকিন নিজে রবিবার বললেন, ‘ম্যাট্রিক পরীক্ষার’ মতো উত্তেজনা টের পাচ্ছেন! কারণ, আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে পরীক্ষা দেবেন বাংলাদেশী এই ফাস্ট বোলার। এ জন্য সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেখানে যাবেন বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুত গতির এই পেসার। তার সঙ্গী হতে পারেন আরেক নিষিদ্ধ বোলার আরাফাত সানিও।
 
ইংল্যান্ড সিরিজের আগেই দুই বোলারকে ফিরে পেতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সে কারণেই দুজনকে পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সময় তাসকিন ও আরাফাতের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠে। সে সময় ভারতের চেন্নাইয়ে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন তারা। সেখান ব্যর্থ হওয়ায় গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়ে আছে তাদের বোলিং। ইংল্যান্ড সিরিজের আগেই দুই বোলারকে ফিরে পেতে চায় বাংলাদেশ। 
 
তাসকিনের কাছে এই পরীক্ষাটা পড়াশুনা জীবনের কঠিনতম পরীক্ষার মতোই একটা। সবসময় এই পরীক্ষার চিন্তাতেই সময় কাটছে বলে বললেন তাসকিন, মেট্রিক পরীক্ষার আগে তো একটা প্রস্তুতি থাকে। যেদিন শুনবেন যে ১০ তারিখ থেকে পরীক্ষা। আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে যে ডেট ফিক্স হয়ে গেছে। খাইতে ঘুমাইতে শুধু চিন্তা।
 
পরীক্ষার খবরটা শোনার পর থেকে চিন্তা হলেও এটা একটা স্বস্তির ব্যাপার বলেও তাসকিনের দাবি, শোনার পর থেকে আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে। মানসিক একটা চাপ অবশ্যই কাজ করে। আসলে প্রস্তুতি নিচ্ছি তবুও পরীক্ষার আগে সবার মধ্যে একটু নার্ভাসনেস কাজ করে। ইনশাআল্লাহ মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি শুধু স্কিলের উপর নিচ্ছি সেটা না। ওভার অল প্রস্তুতি অনেক ভালো। আশা করছি ভালো একটা পরীক্ষা হবে।
 
বাংলাদেশের দ্রুততম এই বোলারের ধারণা তার অন্তত প্রস্তুতি ভালোও হয়েছে, আল্লাহর রহমতে প্রস্তুতি ভালো হচ্ছে। ইনডোর এবং আউটডোরে বেশ কিছু ক্যামেরা দিয়ে এবং বিশেষজ্ঞ কোচদের তত্ত্বাবধানে আমার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সব সময় কোচরা বোলিং সেশনের ভিডিও করছে। আমাদের যে দেশের কোচ মাহবুব আলী জাকি স্যার উনি তিন চার মাস আমাকে সাপোর্ট করছে। জাতীয় দলের কোচরাও সাপোর্ট করছে। দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে সাপোর্ট করছে। ওভারঅল সবাই সাপোর্ট করছে। সবার সাপোর্ট নিয়ে ভালো পরীক্ষা।
 
যতোই ভালো প্রস্তুতি হোক, দুশ্চিন্তা আছে। সেই দুশ্চিন্তার কারণটাও বলছিলেন তাসকিন, পরীক্ষা তো, ভালোভাবে ও সহজভাবে পরীক্ষা দিয়ে আসতে পারি সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশের এক্সপার্টদের কাছ থেকে যেই মতামত পেয়েছি, তারা সন্তুষ্ট। ইভেন আমি নিজেও সন্তুষ্ট। তবুও আসলে পরীক্ষা দুই একটা বলেও যদি ইনকেস প্রবলেম আসে তাও সমস্যা হবে।এজন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছি।হার্ড ট্রেনিং করছি। বাকি সব আল্লাহর ইচ্ছা।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ