নওগাঁয় তিন উপজেলায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, নিহত এক

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৬, ২০:১৮

নওগাঁয় তিন উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঝড়ে দুটি উপজেলার অন্তত ২০ গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। রবিবার বিকেলে ঝড়ে আত্রাই, মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলার ওই গ্রামের কয়েক শত গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ে গেছে। ঝড়ের সময় বিদ্যুতের লাইন ছিড়ে বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

 
ঝড়ের সময় মহাদেবপুর উপজেলায় গাছের ভাঙা ডালের চাপায় পড়ে মনোয়ারা খাতুন (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মনোয়ারা মহাদেবপুর উপজেলার রহট্টা গ্রামের খাদেম আলীর স্ত্রী। একই ঘটনায় জেহাদ হোসেন (১০) নামে এক স্কুল ছাত্র গুরুত্বর আহত হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ দুটি গ্রাম পরিদর্শন করেন।
 
মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম জানান, স্থানীয় রহট্টা গ্রামে ঝড়ের সময় মনোয়ারা ছাগল আনতে বাড়ির বাইরে গেলে হঠাৎই গাছের ভেঙে পড়া একটি ডালের নিচে চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
 
এর কিছু দূরে একই গ্রামের ভাদু মণ্ডলের ছেলে জিহাদ গাছের ভেঙে পড়া ডালের চাপায় আহত হয়। তিনি জানান, ওই এলাকার কন্দুনা, হরিপুর, রঘুনাথপুর, রহট্টাসহ অন্তত ৮টি গ্রামের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
 
আত্রাই উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত জালাল হোসেন জানান, ঝড়ে তাদের পাকা ঘর ভেঙে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে বাসবাস করতে হচ্ছে। একই গ্রামের মো: সামাদ জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগে ঝড়ে তাদের ঘর-বাড়ির টিন উড়ে গিয়েছে।
 
তাদের মতো এই গ্রামের প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে কেউ খোলা আকাশের নিচে আবার কেউ অন্যের বাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন। নৈদিঘী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল গোনি, মো: আলামিন ও মো: রিপন জানান, তাদের মতো গ্রামের প্রায় ৩০টি ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। এ ছাড়া শতশত গাছ ভেঙে রাস্তা পড়ে আছে। বিদ্যুতের পোল ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুতের সংযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে।
 
আত্রাই উপজেলার মনোয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল্লামা শের-ই বিপ্লব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা ও বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
 
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত জানান, উপজেলার পার-সোমবাড়ি, ভগবানপুর, কাশিমপুরসহ ৬/৭টি গ্রামের ৫০/৬০টি বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
 
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান জানান, প্রাথমিক ভাবে দুটি গ্রামে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বিদ্যুতের সংযোগ দেয়ার জন্যেও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 
জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, তালিকা পেলেই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা দেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এএন