তাকে জিমন্যাস্টিকসের লোকেরা ‘বেঙ্গল টাইগ্রেস’ নামে ডাকে। পরিচয় দেওয়ার সময়ও বলা হয় মার্গারিতা মামুন একজন বাংলাদেশী-রাশিয়ান। সেই মার্গারিতা রিও অলিম্পিকে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে স্বর্ণ জয়ের পর এবার বাংলাদেশে আসছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মার্গারিতা মামুনের বাবা বাংলাদেশী আব্দুলাহ আল মামুন মেয়েকে দেশে নিয়ে আসার কথা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। বাংলাদেশি বাবা আর রুশ মায়ের ঘরে জন্ম নেয়া মার্গারিতা অলিম্পিক গেমসের পঞ্চদশ দিনে বাংলাদেশ সময় গত শনিবার গভীর রাতে ব্যক্তিগত অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণ জেতার পর সাংবাদিকদের বলেছেন, তার এই জয় দুই দেশের জন্য।
অলিম্পিকের পরেই মার্গারিতাকে বাংলাদেশে আনবেন বলে তার বাবা মামুন কথা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার। গতকাল রোববার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার দুই দিন পরে গত বছর এই সময়ে তাদের (মার্গারিতা ও তার পরিবার) সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলাম মস্কোর অদূরে।’
বাংলার বাঘিনী এই জিমন্যাস্টকে দেশের মাটিতে আরও বড় ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়ার আশা শুনিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার, ‘মামুন ভাই কথা দিয়েছেন, অলিম্পিকের পরে মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন। তখন ‘বাংলার বাঘীনি’র জন্য ফুলের তোড়াটা নিশ্চয় আরও অনেক বড় হবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গত বছর মস্কো সফরকালে ওই নৈশভোজে মার্গারিতার সঙ্গে তোলা দুটি ছবিও ফেইসবুকে দিয়েছেন তিনি। মস্কোতে জন্ম নেয়া মার্গারিতার বাবা আব্দুলাহ আল মামুন পেশায় মেরিন প্রকৌশলী, রাশিয়াতেই থিতু হয়েছেন তিনি। মা সাবেক রিদমিক জিমন্যাস্ট আন্নার কাছ থেকেই দীক্ষা পেয়েছেন মার্গারিতা।
রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সে রাশিয়ায় বেশ কয়েক বছর ধরে আলোড়ন তোলা মার্গারিতা ‘দ্য বেঙ্গল টাইগার’ নামে পরিচিত।
রিওতে মার্গারিতা প্রতিপক্ষদের ঘায়েল করেন হুপ, বল, ক্লাব ও রিবন এই চারটি রুটিনে অনবদ্য ক্রীড়াশৈলী দেখিয়ে। সোনা জিততে তিনি পেছনে ফেলেন ফেভারিট ও তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্বদেশি ইয়ানা কুদ্রিয়াভেসভাকে।
পদক জয়ের পর তার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের কথাও উঠে আসে, ‘আমি এটা জেনে খুব খুশি যে বাংলাদেশের অনেক ভক্ত আমাকে সমর্থন করছে। আমি বাংলায় ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুণতে পারি। যখন ছোটো ছিলাম, আমার বাবা আমাকে বাংলা শেখাতেন; কিন্তু আমি সব ভুলে গেছি।’
