হলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে মঙ্গলবারের অবরোধ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় আগামীকালও এই আন্দোলন চলবে বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের এই বক্তব্য অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন, আজ কিছু কিছু বিভাগে ক্লাস হয়েছে এবং যে সকল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল সেগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্দোলনরত মনিরুল ইসলাম রাজন বলেন, শিক্ষার্থীরা সকাল আটটার দিকেই ক্যাম্পাসে জড় হতে থাকেন। বেশিরভাগ শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এরপর ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে মূল ফটক অবরোধ করে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে তারা রায়সাহেব বাজার মোড় অবরোধ করেন।
আন্দোলরত আরেক শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলেন, দাবিকে যৌক্তিক মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী আমাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও আমাদের সঙ্গে আছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও আমাদের এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সরকার দলের ছাত্র সংগঠনসহ অধিকাংশ শিক্ষক জোরালোভাবে প্রকাশ্যে আমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে পারছেন না।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জবি শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই দাবি যদি না মানা হয় তবে আমরা পরবর্তীতে শুধু পুরান ঢাকা নয়, সমগ্র ঢাকা শহর ব্যাপী আরো বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করব। যেকোনো মূল্যে দাবি আদায় করেই ছাড়ব।
প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন, আমরা স্বীকার করছি শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। শিক্ষার্থীরা হলের দাবি করছে ভালোভাবে পড়াশোনা করার জন্যই। তবে পড়াশোনা বাদ দিয়ে আন্দোলনের কি কোনো মানে আছে? তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তবে যাই হোক শিক্ষার্থীদের জন্য হলের ব্যবস্থা হতে এখনও চার থেকে পাঁচ বছর লাগবেই। আমাদের কথা তোমরা ক্লাস কর। পড়াশোনা চালিয়ে তার পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাও।
প্রসঙ্গত, নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে জাতীয় চার নেতার নামে জবির চারটি হল এবং কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় নতুন হল নির্মাণের দাবিতে টানা ১৯ দিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
ইত্তেফাক/এমকেএইচ/এমআই
