খুলনা মেডিক্যাল কলেজে (খুমেক) শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের চার নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার খুমেকের একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
খুমেক ছাত্রলীগের দু’ গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় ৬টি মামলা হয়েছে। দু’গ্রুপই গত শনিবার রাতে এ মামলাগুলো দায়ের করে। এদিকে, শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
কলেজ সূত্র জানায়, উদ্ভুত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রবিবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ছাত্রলীগ খুমেক শাখার বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সাইফুল্লাহ মানসুর, অনিন্দ্য সুন্দর, সাইফুল ইসলাম ও রাসেলসহ চারজনকে সাময়িক বহিষ্কার এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
এ সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কলেজের ছাত্র সাইফুল্লাহ মানসুর, অনিন্দ্য সুন্দর, সাইফুল ইসলাম ও রাসেলকে সাময়িক বহিষ্কার এবং কলেজ ক্যাম্পাসে সকল রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সাইফুল্লাহ মানসুর গ্রুপের কর্মীদের সঙ্গে প্রতিপক্ষ সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান টিটো গ্রুপের কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রামদা, বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটার আঘাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। যাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রবিবার সকালে সরেজমিনে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ক্লাস খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। শিক্ষক ও প্রশাসনিক অনেক ভবনে তালা দেয়া রয়েছে। আতংকে রয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস জানান, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় গত শনিবার রাতেই ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক শাহীন আলম জানান, সংঘর্ষের ঘটনার পর খুলনা মেডিক্যাল কলেজে মিছিল-মিটিং, সমাবেশসহ ছাত্রলীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী বিবৃতি না দেয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
ইত্তেফাক/এমআই
