‘হানিফ সংকেত আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন’

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ২১:৩৫

সঙ্গীতশিল্পী আকবর। ২০০৩ সালে হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে ‘একদিন পাখি উড়ে’ গানটির মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান তিনি। এরপর ‘তোমার হাত পাখার বাতাসে’ গানটির মধ্য দিয়ে সঙ্গীতাঙ্গনে জনপ্রিয়তা তৈরি হয় তার। পরবর্তীতে গানকেই পেশা হিসেবে নেন এই সঙ্গীতশিল্পী। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন নাজমুল হাসান

 

গানের মধ্য দিয়ে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর শুরুটা বলুন—

দারিদ্রতার কারণে পড়াশোনা খুব বেশিদূর হয়নি আমার। ঘরে মা অসুস্থ বাবার কোনো আয় রোজগার ছিল না, জীবিকার জন্য বেছে নিলাম রিকশা চালানো। যশোর জেলার অলিগলিতে রিকশা নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম, স্থানীয়

কিশোর ক্লাবে নিয়মিত গান-বাজনা করতো ছেলেমেয়েরা। সেই ক্লাবের

 

বারান্দায় বসে থেকে তাদের গান শুনতাম, সিডি দোকানে গান বাজলে রিকশা থামিয়ে গান শুনতাম। যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়তো তখন নদীর পাড়ে রিকশার ওপর বসে গান গাইতাম। আস্তে আস্তে কাছের মানুষরা আমাকে বলতে শুরু করলো, ‘কি রে আকবর তুই তো শিল্পীদের মতো গান করিস।’ তারপর এলাকায় কনসার্ট হলে আমাকে সবাই গান গাইতে বলতো। গানের সাথে কখন যে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছি নিজেও জানি না। এখন গানই আমার জীবন। গান করার জন্যই এখনো বেঁচে আছি।
 

হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আপনি পরিচিতি পান। এই অনুষ্ঠানে কীভাবে এলেন?

একদিন যশোহ এমএম কলেজের নবীণবরণ অনুষ্ঠানে যে সকল শিল্পীদের সেখানে গান পরিবেশন করার কথা ছিল তাদের এক মিউজিশিয়ানের কি-বোর্ড কাজ করছিল না। তাদের শুরু করতে দেরি হওয়ায় এলাকার ছেলেরা আমাকে ধরে স্টেজে তুলে দিলো। প্রায় ৭ থেকে ৮টি গান করেছিলাম। সেখানে আমার গান শুনে ফুয়াদ হোসেন নামের একজন আমাকে নিয়ে ইত্যাদিতে চিঠি লেখেন। হানিফ সংকেত আমার খোঁজ নিয়ে আমাকে ঢাকায় ডেকে পাঠান। পরে আমার গান পছন্দ হওয়াতে ‘একদিন পাখি উড়ে’ গানটি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়।

 

এই সফলতার পেছনে সব থেকে বেশি অনুপ্রেরণা কে দিয়েছেন?

 

 

আমি এক সময় রিকশা চালাতাম, সেখান থেকে আজ আমাকে সবাই কণ্ঠশিল্পী আকবর নামে চেনে। আর এই পুরো কৃতজ্ঞটাই হানিফ সংকেত স্যারের। যে আদরটা আমার পরিবার থেকে পাওয়ার কথা সেটা আমি স্যারের কাছ থেকে পেয়েছি। উপরে ঈশ্বর, বাবা চলে গেছেন অনেক আগেই, বাবার পরে আমি স্যারকে আমার দ্বিতীয় পিতার মতো সম্মান করি। সেই ২০০৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হানিফ সংকেত আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন। তার মতো করে আমাকে এত বেশি অনুপ্রেরণা আর কেউ দেয়নি।

 

‘হাত পাখার বাতাসে’ মিউজিক ভিডিওর পর শোনা গিয়েছিল পূর্ণিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাই—

এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। তার মতো একজন গুণী অভিনেত্রী আমার গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছেন। এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি আমার শ্রদ্ধাভাজন একজন।

 

দীর্ঘদিন ধরে আপনি অসুস্থ ছিলেন। এখন কেমন আছেন?

৩ মাস পিজি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। খাওয়া একদম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে খুব খারাপভাবে দিন পার করেছি।  হানিফ সংকেত স্যারসহ নানা গুণীজন আমাকে সেখানে দেখতে গিয়েছিলেন। আমি এখনো অসুস্থ। এপ্রিলে চেন্নাই যাবো চিকিত্সার জন্য।