কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের দাবি থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২১:০৪
আবাসিক সংকট নিরসনে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জমিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নির্মাণের দাবি থেকে সরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 
 
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে আবাসিক হলের দাবিতে বৃহস্পতিবারও পৃথক কর্মসূচিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
একই দাবিতে শুক্রবার পুরান ঢাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় এবং আগামীকাল শনিবার বিকেলে সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা মিলনায়তনে বুদ্ধিজীবী-নাগরিক সমাজকে নিয়ে গোলটেবিল আলোচনার আহ্বান করেছে আন্দোলনকারীরা।
 
জবি শিক্ষার্থী ও পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের মতো উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সার্বিক বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
 
জবির জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক অধাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, শূন্য আবাসন ব্যবস্থা সংবলিত দেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতি বছরের মত এবারও দীর্ঘদিন যাবত হলের জন্য আন্দোলন করে আসছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মাঝে মাঝে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কাছাকাছি কোন খালি জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গাটি বরাদ্দের জন্য ছাত্ররা দাবি জানায়। তাই কারাগারের জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে বরাদ্দের জন্য সরকারকে একাডেমিক কাউন্সিল আবেদন জানায়। পরবর্তীতে পুরানো ঢাকাবাসী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এর বিরোধিতা করছে। পুরানো ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এলাকাবাসীর পাল্টা-পাল্টি অবস্থান একেবারেই কাম্য নয়। তাই কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের দাবি থেকে সরে এসেছে জবি প্রশাসন।
 
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ঐতিহ্যগতভাবেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তথা সাবেক জগন্নাথ কলেজের সাথে পুরানো ঢাকাবাসীর সম্পর্ক নিবিড় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যদিও পুরানো ঢাকার কেন্দ্র্রীয় কারাগারের জায়গাটি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দাবি একখণ্ড জমি পাওয়া। বেদখল হওয়া হল (পুরানো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হিন্দুদের ছোট ছোট পরিত্যক্ত বাড়ি) যা জগন্নাথ কলেজ থেকে ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ২০ বছর আগে ১৯৮৫ সালেই হাতছাড়া হয়ে যায়। ওইসব স্থাপনা পুনঃদখল করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের কাজ বা দায়িত্ব হতে পারে না। এগুলো পুনঃউদ্ধার করে মালিকানা সত্ত্বসহ বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তর করা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্ব। জায়গার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন বিশেষ করে চরম আবাসন সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই সংকট উত্তরণের নিমিত্তে সরকারের কাছে সুবিধাজনক স্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি জায়গার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান শিক্ষার্থীদেরকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, কারাগারের জমিতে কি হবে, তা সরকার আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে। ইতোমধ্যে ছাত্রদের জন্য কেরানীগঞ্জে জবির নিজস্ব জমিতে ১ হাজার আসনের হল নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রীদের হলের কাজও এগিয়ে চলছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের মতো উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পরিত্যক্ত কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের দাবি থেকে সরে এসেছে জবি প্রশাসন।
 
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
 
শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টার দিকে সমাবেশে মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার জোর্তিময় বড়ুয়া, জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আল-আমিন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মেহরাব আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায়, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি মানোয়ার হোসেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম মাহি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সমাবেশে সংহতি জানান, জবির সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার।
 
বক্তারা বলেন, প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে শিগশিগরই হল নির্মাণের ব্যবস্থা করা। 
 
সমাবেশ থেকে নতুন হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের জমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তর করার দুই দফা দাবি পেশ করা হয়। কারাগারের জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের পাশাপাশি পুরান ঢাকা কেন্দ্রীক একটি সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি শিগগিরই হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্পষ্ট ঘোষণার দাবি জানান তারা।
 
জবি ছাত্রলীগের ধর্মঘট ও মানববন্ধন: এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ধর্মঘট চলাকালে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেছে জবি ছাত্রলীগ। মানববন্ধন জবি ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম হলের দাবিতে আন্দোলনরত সব শিক্ষার্থীদের একই ব্যানারে আসার আহ্বান জানান। ধর্মঘট ও মানববন্ধন থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলাম। 
 
তিনি জানান, কারাগারের জমিতে হল নির্মাণ ও বেদখল হল উদ্ধারের বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকায় সচেতন মূলক প্রচারণা, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পঞ্চায়েত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবে ছাত্রলীগ। এছাড়াও শনিবার জবি শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।