আসছে ‘গৌড়মতি’ আম

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০০:২৫
শুধু আশ্বিনা ছাড়া বাকি ভালোমানের সব আমই জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এরপর আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহ বাজারে রাজত্ব করে আশ্বিনা। কিন্তু এরপর বাজারে আর কোনো আম থাকে না। তবে এমন একটি আমের জাতের সন্ধান পাওয়া গেছে যা বাজারে থাকবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় নতুন এই আমের ‘গৌড়মতি’ নামকরণ করেছেন কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হক। তিনি বর্তমানে রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, আমটির সর্বপ্রথম দেখা মেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলার প্রাচীন এই জনপদের ‘গৌড়’ থেকে ‘গৌড়’ আর মূল্য বিবেচনায় রত্নের সঙ্গে তুলনা করে ‘মতি’ শব্দের সমন্বয়ে আমটির নামকরণ করা হয়েছে ‘গৌড়মতি’।
 
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিমত, ‘গৌড়মতি’ সত্যিই একদিন দিন ফেরাবে আমচাষিদের। কেননা সবার শেষে বাজারে উঠবে এই আম। তখন এর মূল্য পাওয়া যাবে কেজিপ্রতি কমপক্ষে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে ‘অসময়ে’ আমের চাহিদা যেমন মিটবে তেমনি ভালো দাম পেয়ে লাভবান হবেন চাষিরা।
 
রাজশাহীর পবা উপজেলার মতিয়াবিলে ২১ কাঠা জমিতে গৌড়মতি আমের চারার নার্সারি করেছেন মঞ্জুরুল হক। এরই মধ্যে দুই হাজার চারা বিক্রি করেছেন তিনি। বিক্রির অপেক্ষায় আছে আরও প্রায় এক হাজার। এর মধ্যে একটি গাছে দুটি আমও ধরেছিল এবার। গত বুধবার (৩১ আগস্ট) সকালে আম দুটি পেড়েছেন তিনি। এ সময় কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সামান্য গাছপাকা একটি আম খেয়েই এর স্বাদে উচ্ছসিত কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
 
কীভাবে এই জাতের সন্ধান মিলল-জানতে চাইলে মঞ্জুরুল হক বলেন, ২০১২ সালে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে কীটতত্ববিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই বছর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাশের বাজার থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে এক কেজি আম কিনেন। আমগুলো খেয়ে দেখেন, এটি স্বাদে-গুণে-গন্ধে অসাধারণ। তখনই সিদ্ধান্ত নেন আমের এই জাতটির সমপ্রসারণের।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব ও গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হামিম রেজা জানান, ল্যাংড়া ও আশ্বিনার প্রাকৃতিক পরাগায়নের ফলে নতুন এই জাতটির উদ্ভাবন হয়েছে। আমটি দীর্ঘ সময় গাছে থাকার বৈশিষ্ঠ্য পেয়েছে আশ্বিনা থেকে। আর স্বাদ, গন্ধ, রং ও আকৃতিসহ অন্যান্য গুণাগুণ পেয়েছে ল্যাংড়া থেকে। ফলে আমের এই নতুন জাতটির ঠিকমতো প্রচার, প্রসার ও সমপ্রসারণ করা গেলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ল্যাংড়ার মতোই সুমিষ্ট আম পাওয়া যাবে বাজারে। আর তখন এটিই হবে দেশের সবার শেষে বাজারে ওঠা আম।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক ড. সাইফুর রহমান জানান, তার তত্ত্বাবধানে দেশের ২১টি হর্টিকালচার সেন্টারে ‘গৌড়মতি’র জাত নিয়ে পরীক্ষা চলছে। হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে বর্তমানে যেসব গাছ রয়েছে সেসব গাছ থেকে ধীরে ধীরে অধিক সংখ্যায় চারা উত্পাদন করে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। কারণ ‘গৌড়মতি’ দেশের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় একটি নাবি জাতের আম।
 
 

ইত্তেফাক/এএন