অহংকারের পরিণাম ভালো হয় না

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ২১:৪২

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান

আমি ছোটবেলায় ঈশপের অনেক গল্প পড়েছি। পশু-পাখিদের নিয়ে লেখা সেই গল্পগুলো পড়ে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। অহংকারী হাতির কথা আমার এখনো মনে আছে। হাতির শৌর্য-বীর্য তাকে জলে ডোবা থেকে বাঁচাতে পারেনি। সুকুমার রায়ের ‘ষোল আনাই মিছে’ কবিতাটিতেও ফুটে উঠেছে, অহংকার পতনের মূল। উটকো অহংকার আমাদের জীবনে সফলতা আনতে পারে না, আনে ধ্বংস।

আমাদের জীবন ক্ষণস্থায়ী। ক্ষণস্থায়ী এই জীবন নিয়ে আমরা অহংকার করি। শৌর্য-বীর্য, চেহারা, রূপ-লাবণ্য, ধন-সম্পদ, পাণ্ডিত্য প্রভৃতি ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে আমরা অহংকার করি। কালো বর্ণের মানুষ দেখলে নাক ছিটকানি দেই। অথচ একদিন আমাদের এই ধরাধাম ছেড়ে চলে যেতে হবে অনন্তকালের জীবনে। রূপ-লাবণ্য, ধন-সম্পদ, কিংবা পাণ্ডিত্য কোনোকিছুই আমাদের সঙ্গী হবে না, আমাদের সঙ্গী হবে ভালো কাজ।

জগতে যারা শ্রেষ্ঠ হয়েছেন, তারা ছিলেন নিরহংকার। অহংকারের এক আনাও তাদের স্পর্শ করতে পারেনি বলেই মানুষ তাদের স্মরণ করে। বিজ্ঞজনেরা অহংকার না করার জন্য আমাদের উত্সাহিত করেছেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মাদ (স) ছিলেন নিরহংকার। তাঁর স্বাভাবিক জীবন-যাপন পুরো মানবজাতির জন্য আদর্শ।

একসময়ে ক্রিকেটে রাজত্ব করা অস্ট্রেলিয়া টিম এখন নুইয়ে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট সিরিজ হারানো ছিল উপমহাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য খুব কঠিন কাজ। অথচ এবার ভারতীয় ক্রিকেট টিম বেশ হেসে-খেলে সেটা করে দেখিয়েছে। এই অস্ট্রেলিয়া টিম আগে অহংকার করে ছোটো দলগুলোকে কত কিছুই না বলতো! ভারত ক্রিকেট টিম ভেবেছিল, অস্ট্রেলিয়া ভারত সফরে আসলে তাদের হেসে-খেলে উড়িয়ে দেবে। ভারতের টিভি চ্যানেল অহংকার করে বিজ্ঞাপন বানিয়েছিল, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট টিমকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটপাগল ভারতীয়রা অহংকার করে অনেক কথা লিখেছিল। আজ কোথায় সেই অহংকার? অস্ট্রেলিয়ার কাছে টি-টুয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পর সেই অহংকার মাটিতে মিশে গেছে। অহংকারের পরিণাম এরকমই হয়। আমাদের সবার মনে রাখা উচিত, অহংকার করে কখনো বড় হওয়া যায় না।

n লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়