গত ১৩-৩-২০১৯ তারিখে কমলাপুর রেলস্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রংপুর এক্সপ্রেসের ১৫-৩-২০১৯ তারিখের টিকিট কিনলাম। টিকিটে ভ্রমণের সময় লেখা ছিল সকাল ৯:০০ ঘটিকা। বড় শখ ছিল দিনের আলোতে ট্রেনে বসে, যমুনা নদীর উভয় পাশের কৃত্রিম বন, নদীর বুকে জেগে ওঠা চরসহ সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও নওগাঁ জেলার চলনবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করব। কিন্তু সে সাধ আর পূরণ হলো না। সকাল ৯টার ট্রেন ধরার জন্য হন্তদন্ত হয়ে স্টেশনে পৌঁছে পুলিশ কনস্টেবলের কাছে জানতে পারলাম—ট্রেন লেট, সময় ১১টা। এর কিছু সময় পর স্টেশনের ইলেকট্রনিক নোটিস বোর্ডে দেখলাম ট্রেন ছাড়ার সম্ভাব্য সময় ২:১৫ ঘটিকা। এর ঘণ্টা দুই পরে নোটিস বোর্ডে দেখলাম ট্রেন ছাড়ার সম্ভাব্য সময় ১৬:০০ ঘটিকা। ট্রেনটি এল বিকাল ৫টায়। আমার সিট নম্বর ছিল ঝ-১০-১০। ঝ বগিতে গিয়ে দেখলাম বগিতে লাইট ও ফ্যান থাকলেও বগি অন্ধকার, ভেতরে ভ্যাপসা গরম। অ্যাটেনডেন্সকে আলো ও বাতাসের ব্যবস্থার কথা বললেও সদুত্তর মিলল না। ঐ দিনই সরকার মোবাইলে এসএমএস দিয়ে জানিয়েছে, আজ ১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ মানসম্মত পণ্য। ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভোক্তা হিসাবে অভিযোগ করুন—জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’। পত্রিকায় ভোক্তার অভিযোগ ও তথ্য প্রাপ্তির জন্য ই-মেইল [email protected] এবং টেলিফোন নম্বর ০২-৫৫০১৩১৮ ও মোবাইল ফোন নম্বর ০১৫৫২-৪৭৯৯১০, ০১৭৭৭-৭৫৩৬৬৮ ও ০১৭১৮-২৬৬৫০১ দেওয়া ছিল। প্রথমে মাঝের নম্বর ০১৭৭৭৭৫৩৬৬৮ ২.৫৮ ঘটিকায় বন্ধ পাওয়া গেল। এর পর প্রথম নম্বরটি ডায়াল করলে একজন অ্যাসিটেন্ট ডাইরেক্টর জানতে চান, ‘আজ বন্ধের দিন কল করেছেন কেন?’ শেষে তৃতীয় নম্বরটিতে ডায়াল করলে বলা হলো, ‘আজ বন্ধের দিন, আপনি আগামী সোমবারে এসে অভিযোগ করবেন।’
বাংলাদেশ রেলওয়ে ভাড়ার বিনিময়ে যাত্রী পরিবহন করে। তারা যাত্রীকে যথাযথ সেবা দিতে বাধ্য। তার সেবার মান নিম্ন হলে যাত্রীগণ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করতে পারেন। কিন্তু যে সংস্থার কাছে এই বিষয়ে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আইনে আছে, তাদের সেবা যদি এরূপ হয় তবে ভোক্তাগণ কোথায় যাবেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সকল কর্তা-ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. আবদুল মালেক
অ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, ঢাকা
