বিকেএসপিতে ডুবল ব্রাদার্স

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

এই ম্যাচও হারা যায়। এমন লজ্জাও পেতে হয়। মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল পড়ন্ত বিকালে ম্যাচ শেষে হয়তো ব্রাদার্স ইউনিয়নের ড্রেসিংরুমে কোচ, কর্মকর্তারা এসব কথা বলেই ক্রিকেটারদের উপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন!

অবশ্য ক্ষোভ, হতাশা যাই বলি না কেন, ব্রাদার্সের কর্মকর্তাদের অগ্নিশর্মা হওয়ার সুযোগটা দলের ক্রিকেটাররাই করে দিয়েছেন। খুব আহামরি না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশ কিছু পরিচিত মুখ, অভিজ্ঞ কয়েকজন ক্রিকেটার নিয়ে মাঝারি মানের দল গড়েছিল ব্রাদার্স। গত বছরও রেলিগেশন লিগ খেলে প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকা ব্রাদার্স গতকাল ডুবেছে অসীম হতাশায়। বিকেএসপির তরুণ-কিশোরদের কাছে হেরে গেছে গোপীবাগের দলটি।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে গতকাল মিরপুরে বিকেএসপির কাছে ২ রানে হেরেছে ব্রাদার্স। অঘটনের শিকার হওয়াটা যেন প্রাপ্যই ছিল ব্রাদার্সের!

শেষ ১২ বলে ১৬ রান দরকার ছিল তাদের। হাতে পাঁচ উইকেট। ওই অবস্থা থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ হেরে গেছে ব্রাদার্স। ৪৯তম ওভারে দুই ব্যাটসম্যান আউট হন, রান এসেছে ৪টি। ৬ বলে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। একটি নো বলের পর প্রথম বলে সিঙ্গেল, দ্বিতীয় বল ডট ও তৃতীয় বলে এবাদত হোসেন রান আউট হন। চতুর্থ বলে ২, পঞ্চম বলে চার মারেন শরীফউল্লাহ। সুমন খানের করা ম্যাচের শেষ বলে ৩ রান দরকার হলেও ব্রাদার্সের শরীফউল্লাহ ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি বলে।

নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিকেএসপির তরুণরা। প্রথমে ব্যাট করে নয় উইকেটে ২৬৭ রান তুলেছিল বিকেএসপি। জবাবে নয় উইকেটে ২৬৫ রান করতে সমর্থ হয় ব্রাদার্স। প্রিমিয়ার লিগে বিকেএসপির এটি দ্বিতীয় জয়। ব্রাদার্সের তৃতীয় হার। ৭১ রান করে বিকেএসপির শামীম হোসেন ম্যাচ সেরা হন।

প্রিমিয়ার লিগের শুরু থেকেই মিরপুরে টস জয়ী দল মূলত ফিল্ডিং করে। গতকাল ব্যতিক্রমের নজির গড়েছে বিকেএসপি। টস জিতে ব্যাটিং করেছে তারা। ২৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে শুরুটা নড়বড়ে হলেও মিডল অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের হাফ সেঞ্চুরিতে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে দলটি। শামীম হোসেন ৭১, পারভেজ হোসেন ৬৯,  আকবর আলী ৫৬, আমিনুল ইসলাম ২৩, সুমন খান অপরাজিত ১২ রান করেন। ব্রাদার্সের শরীফ তিনটি, এবাদত দুটি উইকেট নেন।

ভারতীয় চেরাগ জানি ও জুনায়েদের হাফ সেঞ্চুরির পরও শেষ রক্ষা হয়নি ব্রাদার্সের। নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে চেরাগ জানি ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি করতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন। তারপরই হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচটা ধীরে ধীরে ফসকে যায়। যার সমাপ্তি হলো হারের হতাশায়। চেরাগ জানি ৯৬, জুনায়েদ ৫২, শরীফউল্লাহ অপরাজিত ৪২, ইয়াসির আলী ৩৮, মিজানুর ২৩ রান করেন। বিকেএসপির মুকিদুল চারটি, শামীম হোসেন দুটি উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বিকেএসপি: ৫০ ওভারে ২৬৭/৯ (শামীম হোসেন ৭১, পারভেজ হোসেন ৬৯,  আকবর আলী ৫৬, আমিনুল ইসলাম ২৩, সুমন খান ১২*, মাহমুদুল হাসান জয় ১০; শরীফ ৩/৬৫, এবাদত হোসেন ২/৫৭, শরীফউল্লাহ ১/২৯, নাঈম জুনিয়র ১/৪৫, চেরাগ জানি ১/৫১)

ব্রাদার্স: ৫০ ওভারে ২৬৫/৯ (চেরাগ জানি ৯৬, জুনায়েদ ৫২, শরীফউল্লাহ ৪২*, ইয়াসির আলী ৩৮, মিজানুর ২৩; মুকিদুল ৪/৬২, শামীম ২/৪৩, নওশাদ ১/৪৬)

ফলাফল: বিকেএসপি ২ রানে জয়ী