পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্রে বালু ও মাটি হরিলুট

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৫:০১
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা ঘেঁষা ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বালু মহালের একসনা ইজারা দেয়া হয়। তবে শর্ত হিসেবে ইজারা চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে বালু উত্তোলনের কথা বলা রয়েছে। এবং চুক্তিতে বলা হয়েছে, ড্রেজার বা কোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে নয়, শ্রমিকদের দ্বারা তা উত্তোলন করতে হবে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কাউকেই বালু উত্তোলনের ইজারা দেয়া হয়নি। তা স্বত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এগারসিন্দুর ব্রিজের নিচ থেকে, মির্জাপুর এবং বাহাদিয়া গ্রামের পাঠান বাড়ি ঘাট থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে কয়েক হাজার ঘনফুট বালু ও পলিমাটি কেটে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও একটি প্রভাবশালী মহল এগারসিন্দুর এলাকা থেকে ব্র‏হ্মপুত্রের খনন করা বালু ট্রাক ভর্তি করে বিক্রি করে আসছে। এতে সরকার কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
 
আর অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন ও পলিমাটি কাটার কারণে উপজেলার দক্ষিণ চরটেকী, চরআলগী ও বাহাদিয়া গ্রামের কয়েক শ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
 
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, শনিবার সকালে পুলিশ উপজেলার এগারসিন্দুর ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বালু ভর্তিসহ ট্রাকের চালক হাইদুল ইসলাম (২২), হেলপার এমরান (১৮), রফিকুল ইসলাম রবি (২২) ও আশরাফুলকে (২৪) আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে বালু ভর্তি ট্রাকটি জব্দ চালক ও সহকারীকে ছেড়ে দেয়া হয়। আটকরা গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোকনগর গ্রামের বাসিন্দা। ট্রাকের মালিক ওই উপজেলার গোষাকান্দি গ্রামের ইসলাম উদ্দিন। দুপুর একটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত একটি প্রভাবশালী মহল থানা থেকে বালু ভর্তি ট্রাকটি ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
 
এ বিষয়ে জানতে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ