শ্রীপুরে বস্তাবন্দি এক নারীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৪:৫৩
মাগুরার হাজরাতলা গ্রামের কুমার নদ থেকে চম্পা রানী বিশ্বাস (২০) নামে এক যুবতীর বস্তা বন্দি লাশ উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ আরালিয়া-জয়নগর গ্রামের বিজন বিশ্বাস (২৫) নামে এক যুবককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
 
শনিবার রাত অনুমান ৮টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
 
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানান, নিহত চম্পা রানী বিশ্বাসের পিতা কমলেশ বিশ্বাস ও মাতা প্রভাতী রানী বিশ্বাস দীর্ঘদিন যাবৎ তার কন্যা চম্পাকে বাড়িতে একা রেখে ভারতে বসবাস করে আসছে। পরিত্যক্ত বাড়িতে চম্পাকে একাএকা বসবাস করতে দেখে প্রতিবেশীরা অনেকেই প্রায়ই মুহূর্তে তার বাড়িতে বেড়াতে আসত এবং গল্পগুজব করত।
 
শুক্রবার দিনে ও রাতে তাকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে অনেকের মাঝেই সন্দেহ হয় এবং গোপনে খোঁজ করতে থাকে। শনিবার সন্ধ্যার পর ওই এলাকার জেলেরা কুমার নদে স্রোতে জাল পেতে মাছ ধরতে গেলে উজান থেকে ভেসে আসা মুখ বাঁধা একটি ভারী বস্তা তাদের জালে আটকে যায়। 
 
জেলেরা তখন বস্তাটি তুলে মুখ খুলতেই মৃত মানুষের অস্তিত্ব বুঝতে পেরে পুলিশকে খবর দেয় । খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করেন। লাশটি উদ্ধারের পর প্রতিবেশীদের মাধ্যেমে চম্পা রানীর লাশ বলে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
 
পুলিশ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত কাউকে আটক করতে না পারলেও সন্দেহজনকভাবে আরালিয়া-জয়নগর গ্রামের শচীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের পুত্র,নিহতের কথিত স্বামী বিজন বিশ্বাস (২৫) নামে এক যুবককে তার নিজ বাড়ী থেকে ওই রাতেই আটক করতে সক্ষম হন।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, নিহত চম্পার বাবা-মা বাড়িতে না থাকার কারণে প্রভাবশালী প্রতিবেশী শ্যামল ও ব্রজেন্দ্রনাথের সাথে তার (চম্পার)জমি-জমা ও অর্থ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের মত বিরোধ চলছিল । এছাড়াও বিজন বিশ্বাস স্বামী পরিচয়ে তার বাড়িতে যেত। অদৌও তাদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী কি-না তাও কেউ সঠিক করে বলতে পারছে না । তবে তাকে কি কারণে বা কারা এধরনের নৃশংস হত্যা কান্ড ঘটায়েছে তা প্রতিবেশীরা কেউ সঠিক করে বলতে পারছে না।
 
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল ইসলাম এ বিষয়ে কোন মন্ত্রব্য করতে রাজী হননি তবে তিনি জানান, যে ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে সব জানা যাবে ।
 
এ বিষয়ে মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায় বলেন জোর তদন্ত চলছে খুব শিগ্গিরই এ হত্যাকান্ডের আসল রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।
 
ইত্তেফাক/এমএইচ