শিল্পকলায় কণ্ঠশীলনের আবৃত্তি প্রযোজনা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:১৯
শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি মিলনায়তনে গত শনিবার সন্ধ্যায় হয়ে গেল কণ্ঠশীলনের আবর্তন সমাপণী সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠান। দুই পর্বে বিভক্ত এ অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে ছিল আলোচনা ও সনদপত্র বিতরণ, দ্বিতীয় অংশে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
 
অনুষ্ঠানে প্রদায়ক গুণীন ছিলেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ফরাসউদ্দীন ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সভাপতিত্ব করেন কণ্ঠশীলনের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মিঞা।
 
মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, মানুষ দুইভাবে তার জীবনকে চালিত করতে পারে। একটি জীবনযাপন আরেকটি জীবনধারণ। জীবনযাপন করতে গেলে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু জীবনধারণ করতে গেলে দেশের সঙ্গে সংস্কৃতির সঙ্গে মিশতে হয়। বাংলাদেশে জন্ম নিলেই কেই বাঙালি হয়ে যায় না। সেটা আমরা দেখেছি। বাঙালি সত্যিকারের বাঙালি হয়ে উঠবে তখনই যখন সে দেশকে ভালোবাসবে, নিজেকে ভালোবসবে, মানুষকে ভালোবাসবে। তাহলেই সকল দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারবো আমরা।
 
রামেন্দু মজুমদার বলেন, গুণী মানুষদের সংস্পর্শে যারা এসেছে তারা সুন্দর মানুষ হতে বাধ্য। এখানে যারা সংস্কৃতির চর্চায় নিজেদের নিবেদিত করেছেন তারা তাদের জ্ঞানের আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেবেন। তার মধ্য দিয়েই সংস্কৃতির যে শক্তি রয়েছে তা অন্ধকারের শক্তির বিরুদ্ধে জয়লাভ করার পথ দেখাবে। এতে করে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশও বেগবান হবে।
 
ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, সুকুমার প্রবৃত্তির চর্চার প্রয়োজন আজকে সবচেয়ে বেশি। কারণ বস্তুগত বিষয়সমূহ মানুষকে সত্য সুন্দরের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। যারা সত্য সুন্দরের পথের চর্চা করেন তারা বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ কম।
 
গোলাম কুদ্দুছ বলেন, আবৃত্তি এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত শিল্প। কবিতাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন একজন আবৃত্তি শিল্পী। কণ্ঠশীলন আবৃত্তি ছাড়াও যেসকল সাংস্কৃতিক চর্চায় ভূমিকা রাখছে তা আদতে আমাদের নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিবান করে গড়ে তুলছে।
 
আলোচনা পর্ব শেষে তিনটি আবৃত্তি প্রযোজনা করে কণ্ঠশীলনের বাচিকশিল্পীরা। যে তিনটি প্রযোজনা উপস্থাপন করে কণ্ঠশীলন, সেগুলো হলো ‘আগুন লেগেছে রক্তে মাটির গ্লোবে’, ‘বীরের এ রক্তস্রোত-মাতার এ অশ্রুধারা’ ও ‘অমৃতের জয় বলো ভাই’। এই আয়োজনে কণ্ঠশীলনের ৮২ থেকে ৮৫ তম ব্যাচের সনদ প্রদান করা হয়।