রায়পুর উপজেলার ৭৭টির ৪৫টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ২২:১১

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে আজ রবিবার রায়পুর উপজেলায় ভোটগ্রহণ। পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের ৭৭ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। ভোটারদের মনেও রয়েছে সহিংসতার আশঙ্কা। এ ছাড়া রয়েছে টাকা ছড়ানোর অভিযোগও। এসব কারণে এ উপজেলায় নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। ভোটের দিন এখানকার ভোটাররা সহিংসতার আশঙ্কা করছেন। অবশ্য প্রশাসন যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রায়পুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১ হাজার ৪৯২। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ২৩ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ১৬৯ জন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৭৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রের জন্য নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। বেশিরভাগ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রায়পুর নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দু’জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আটজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নের ভোটাররা আতঙ্কে রয়েছেন বেশি। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নৌকা ডুবাতে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ভোটারদের মধ্যে নগদ টাকা ও নারীদের বোরকা দিয়ে কেন্দ্রে পাঠানোসহ ভোট কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলতাব হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বলে কেউ কেউ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ ভোটের দিন তিনিও সহিংসতার আশঙ্কা করছেন। ভোটের দিন সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

রায়পুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, দলের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী এ নির্বাচনে চরাঞ্চলের বিশেষ বাহিনী দিয়ে এলাকায় ভীতসন্ত্রস্ত পরিবেশ সৃষ্টি করছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী চরাঞ্চলের ভোটারের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে বলে আসছে, ‘ভোট দেব, রক্ষা করতে পারবেন তো?’ এসব হুমকি নিয়মিত দিয়ে আসছে। তাই চরাঞ্চলের নির্বাচনের সময় মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

রায়পুর থানার ওসি একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যই সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।

উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিল্পী রানী রায় বলেন, উপজেলার ৭৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এ বিষয়ে ভোটার ও কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেছি। রায়পুরে দায়িত্ব পালন করবেন চারজন ম্যাজিস্ট্রেট। তারা অবস্থা বুঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করবেন।