পটিয়ার কোলাগাঁও ওয়াহিদুর রহমান সড়কের বেহাল অবস্থা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৭:৩৮
পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের ভেল্লাপাড়া থেকে কালারপোল পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুর রহমান সড়কে ভারি ট্রাক, কার্গো চলাচলের কারণে সড়কের বারবার কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলাচলে জনসাধারণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি বারবার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হচ্ছে। সড়কটি কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ করা হলে টেকসই হবে। জানা যায়, উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহসড়কের ভেল্লাপাড়া থেকে কোলাগাঁও কান্তির হাট পর্যন্ত এলজিইডির প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। ২০১২ সালে প্রায় ১২শ’ ৩৫ মিটার সড়কটিতে ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কাপের্টিং করা হয়। সড়ক নির্মাণে বিশেষ অবদানের জন্য এলাকাবাসী এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুর রহমানের নামে এর নামকরণ করে। তিনিই এ সড়কটি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন এবং প্রকৌশল অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কোলাগাঁও এলাকার ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র, ২২৫ মেগাওয়াট নির্মাণাধীন বিদ্যুত্ কেন্দ্র, শিকলবাহা এলাকায় নির্মিতব্য ডুয়েল ফুয়েল বিদ্যুত্ প্রকল্পের কাঁচামালবাহী গাড়ি ও পার্শ্ববর্তী ৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন, ফোর এইচ গ্রুপ, এনার্জি প্যাকের মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উত্পাদিত পণ্যের প্রায় অর্ধশত ভারি যানবাহন চলাচল করে থাকে। এ সমস্ত শিল্প কারখানার ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে ২ বছরের মধ্যে সড়কটির পাথর উঠে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে রাস্তাটি কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায়। তখন যানবাহন চলাচল দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাচলও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
 
এছাড়া সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ি, কান্তির হাট বাজার, কান্তির হাট সোনালী ব্যাংক শাখা, চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাপড়া ভূমি অফিস, কালারপোল সেতু, কোলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ, লাখেরা হাইস্কুল, লাখেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানায় কর্মরত শত শত শ্রমিক কর্মচারীসহ স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ চলাচল করে থাকে। কিন্তু এ সড়কে চলাচলে তাদের প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
 
এ ব্যাপারে কোলাগাঁও ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান সামশুল ইসলাম জানান, এ সড়ক দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য অনেক চেষ্টা তদবির করেও তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে রাস্তাটি ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর এমপি সামশুল হক চৌধুরীর প্রচেষ্টায় সড়কটি মেরামতের জন্য গত জুন মাসে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে টেন্ডার দেয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত সড়কটির মেরামতের কাজ শুরু করা হয়নি।  নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আহমদ নুর জানান, আমি মাত্র গত সপ্তাহে চেয়ারম্যানে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। আশা করি, সহসা এ সড়কের মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
 
পটিয়া এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী শংকর দে জানান, এ সড়ক মেরামতের জন্য গত জুন মাসে ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির জন্য সড়কের মেরামত কাজ সম্ভব হচ্ছে না।
 
 
ইত্তেফাক/এএন