চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিষে মারল অপর আরেকটি বাস। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মৌলভীবাজারের শেরপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থী ওয়াসিম আফনান (২২) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
ওয়াসিম হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুদ্র গ্রামের মো. আবু জাহেদ মাহবুব ও ডা. মীনা পারভিনের ছেলে।
ওয়াসিমের সহপাঠীদের অভিযোগ, বাসের চালকের দুই সহযোগী ওয়াসিমকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এসময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির আরেকটি বাস তার উপর দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত ওয়াসিমকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সন্ধ্যার পর থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। ওয়াসিমের বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থীদের আরেকটি গ্রুপ কদমতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে বিক্ষোভ করলে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শিক্ষক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাত্রদের বুঝিয়ে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। রাত সোয়া ৯টায় পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়ে আসে বলে ট্রাফিকের একজন কর্মকর্তা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যুর প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, ওয়াসিম আফনানকে ওসমানী মেক্যািল কলেজ হাসপাতালে আনার পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওয়াসিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ওসমানী হাসপাতালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম সোয়েব বলেন, ওয়াসিমসহ আরেকজন ছাত্র ওই বাসে করে হবিগঞ্জ থেকে সিলেট আসছিল। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুইজনকেই বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বাসটির চালকের দুই সহযোগী। এসময় ওয়াসিমের উপর দিয়ে আরেকটি গাড়ি চলে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পুলিশ জানায়, যে বাসটি ওই ছাত্রকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় সেটি আটক করা হয়েছে।
