২৮ বছর পর শুরু হলো ডাকসুর যাত্রা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৩

আবারও প্রাণ ফিরে পেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনে কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভার মাধ্যমে ২৮ বছরের অচলায়তন ভাঙে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক এ প্রতিষ্ঠানের।  বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি  অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়। কার্যনির্বাহী কমিটির এ সভায় শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব উঠে। তবে ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। তিনি পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। সভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিমা অর্ণি। প্রস্তাবে আপত্তি জানান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ?‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সম্মানিত ব্যক্তি। এই বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে যে ডাকসু, সেখানে তার মতো একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে সদস্য করা ঠিক হবে না।’

এছাড়া প্রথম অধিবেশনে একটি বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাকসু সভাপতি। সেখানে রাষ্ট্রপতি অথবা প্রধানমন্ত্রী অতিথি হিসেবে থাকবেন বলে জানান তিনি।

এর বাইরে সভায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। আলোচিত সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে বহিরাগত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, আলাদা রিকশা সার্ভিস চালু, গণরুম ও গেস্টরুম প্রথার উচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট দেওয়া বন্ধ করা। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন ডাকসু নেতারা। সভা থেকে বেরিয়ে ডাকসুর ভিপি ইত্তেফাককে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেসকল সমস্যা মোকাবিলা করছে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো সমাধানের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। এছাড়া সিনেটে যে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি থাকে, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

সভাশেষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত  নেতারা। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানী, এজিএস সাদ্দাম হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার  হোসেনসহ নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন ডাকসু নেতারা।

হল সংসদগুলোতেও প্রথম অধিবেশন সম্পন্ন

ডাকসুর অধিবেশনের পাশাপাশি একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রত্যেক হলেই আলাদা আলাদা অধিবেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ১৩টি পদের বিপরীতে বিজয়ী ২৩৪ জন ছাত্র প্রতিনিধি। এসব হলগুলোর মধ্যে ১২টিতে জয়ী হয় ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি হলগুলোর ভিপি, জিএসসহ বেশ কিছু পদে জয়ী হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সভায় দায়িত্ব পেয়ে প্রতিনিধিরা তাদের হলের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। হলের প্রাধ্যক্ষরাও এসব সমস্যাগুলো সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন।

কবি জসীম উদ্দীন হলের জিএস ইমাম হাসান বলেন, আমাদের ছোট্ট হলে অনেক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে— ক্যান্টিনের খাবারের সমস্যা এবং বহিরাগতদের অবস্থানের বিষয়ে কথা বলেছি। একই সঙ্গে হল ভবনের তিনতলা থেকে কর্মচারীদের থাকার জায়গা থাকায় হলের ছাত্রদের থাকার সমস্যা হয়। তারা এক রুমে ১২ থেকে ১৪ জন করে থাকে। এছাড়া, রাত ১২টার পরে হলের সব দোকানপাট বন্ধ হওয়ায় খাবার পাওয়া যায় না। আমরা রাতেও দোকানগুলো খোলা রাখার দাবি জানিয়েছি। আগামী বৈঠকে এসব বিষয়ে সমাধান হবে বলে মনে করছি।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ বলেন, প্রতিনিধিদের দাবির বিষয়ে আমরা শুনেছি। তারা হলের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন। আমি অভিযোগ ও দাবিসমূহ লিখিতভাবে দিতে বলেছি। তারা লিখিত দিলে তা সিন্ডিকেট সভায় তোলা হবে। তারাই সিদ্ধান্ত নিবেন। এটা হলের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয় না।

অন্যদিকে মেয়েদের হলগুলোতেও এই সভা হয় যথাসময়ে। প্রতিনিধিরা তাদের হলের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। জানতে চাইলে শামসুন নাহার হলের ভিপি আফরোজা ইমি বলেন, আমরা প্রথম দিনের সভায় দায়িত্ব পেয়েই ক্যান্টিনে উন্নত মানের খাবার, সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে খাবার ব্যবস্থা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হ্রাস, অভিভাবকদের হলে আসার অনুমতি, আবাসিক-অনাবাসিক সবাই যেন আইডিকার্ড জমা দিয়ে চলাফেরা করতে পারে তার অনুমতি এবং তারা রাতে হলে থাকতে চাইলে থাকার ব্যবস্থা, বহিরাগতদের হলে অবস্থান যাতে না করতে পারে তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। এছাড়া ডাইনিং ক্যান্টিনে পলিথিন নিষিদ্ধ করা এবং রিডিংরুম সারারাত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছি। প্রশাসন এসব দাবি পূরণের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।