চৌগাছায় এক দশকে পাঁচ জনপ্রতিনিধি খুন

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৭:৩৫
যশোরের চৌগাছায় জন প্রতিনিধিদের লাশের মিছিল দিন দিন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে। চরম আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তবর্তী এ উপজেলার জন প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের নৃশংস হত্যকাণ্ড এই আতংক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
 
জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট বুধবার ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বাড়ি থেকে বিকেলে রওনা হন। ঐ রাত সাড়ে তিনটার সময় যশোর কোতয়ালী থানার পুলিশ যশোর ষষ্ঠিতলার একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ২৫০ শষ্যা হাসপাতালে নেয়। শুক্রবার লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে আনজুমান মফিদুল ইসলাম কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়। কয়েকদিন পরিবারের সাথে যোগাযোগ না হওয়ায় ৩ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে কাশেম চেয়ারম্যানের ছেলে শাহিনুর রহমান চৌগাছা থানায় জিডি  করতে গেলে জানতে পারেন যশোর কোতয়ালী থানায় একটি বেওয়রিশ লাশ পাওয়া গেছে। শাহিন ও তার পরিবারের লোকজন কোতয়ালী থানায় গিয়ে কাশেমের ছবি দেখে লাশ শনাক্ত করে। পরে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫ সেপ্টেম্বর তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।
 
সর্বশেষ আবুল কাশেমসহ গত এক দশকে একে একে পাঁচজন নির্বাচিত জন প্রতিনিধি নির্মম খুনের শিকার হয়েছেন। অথচ আজও প্রশাসন শনাক্ত করতে পারেনি আসল কিলার কারা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বেছে বেছে পাশাপাশি দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের টার্গেট করে খুন করা হচ্ছে ? সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হত্যা এবং একজন চেয়ারম্যানের লাশ বেওয়ারিশভাবে দাফন করা এখন টক অব দ্যা চৌগাছা, এবার টার্গেট কে ?
 
এদিকে, চরম অশান্ত চৌগাছায় পরপর পাঁচজন প্রতিনিধিকে নির্মম হত্যা হওয়ায় চৌগাছার রাজনীতিবিদরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। 
 
সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত যে সকল জনপ্রতিনিধি নির্মম খুনের শিকার হয়েছেন তারা হলেন- ১৯৯৯ সালে ২০ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসভবনের সামনে জনসম্মুখে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি চৌগাছা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য মকবুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রসীরা গায়ের মাংশ কেটে তার মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়, ২০০২ সালের ২৪ জুলাই স্থানীয় ঝাউতলা বাজারে শতশত মানুষের সামনে সন্ত্রাসীরা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সিংহঝুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন আশাকে কুপিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে হেঁটে চলে যায়, ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাশাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমামুল হাসান টুটুলকে রাতে দলীয় কার্যলয়ের সামনে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সর্বশেষ উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম এই মৃত্যুর মিছিলে শরিক হওয়ায় জন প্রতিনিধিদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 
 
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রশাসন এসব হত্যাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, স্থানীয় প্রভাব বিস্তারসহ নানা কারণে হতে পারে বলে অভিমত দিয়েছেন। এ সকল হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে চৌগাছা থানার ওসি মশিউর রহমান জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী যেই হোক একদিন ধরা পড়বেই।
 
 
ইত্তেফাক/এমআই