ঈদ-উল-আযহায় দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের ঘটনায় খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমানকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি শুক্রবার দিঘলিয়া থানা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার উপ-পরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণের জন্য সেনহাটি ইউনিয়নে মোট ৫২ দশমিক ২২০ মেট্টিক টন (১ হাজার ৪০ বস্তা) চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। সেনহাটি ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ফুলতলা উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ৪ সেপ্টেম্বর এ চাল উত্তোলন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার এ চাল বিতরণের কথা ছিল। সে অনুযায়ী উপজেলা তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মকর্তা (ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার) সমীর বিশ্বাস চালের হিসাব দেখতে চাইলে চাল কম থাকার বিষয়টি ফাঁস হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষ্ণু কুমার সাহা ও উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা (পিআইও) আনিসুর রহমান গোডাউনে হিসাব করে ১৫০ বস্তা চাল কম পান। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন সিলগালা করা হয়। বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় তড়িঘড়ি করে বাইরে থেকে চাল এনে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করলে ভৈরব নদের ইউপি ঘাট থেকে পুলিশ ১৫০ বস্তা চাল জব্দ করে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ প্রতীয়মান হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর বলেন, চাল আত্মসাৎ এবং বাইরে থেকে চাল এনে গোডাউন ভর্তির চেষ্টার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে চেয়ারম্যানকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তবে মামলাটি দুর্নীতিবিষয়ক হওয়ায় সেটি তদন্ত করতে দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে।
সেনহাটি ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমান বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনের সময় ভুলবশত কম আনা হয়। যা ধরা পড়ার পর এনে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছিল। পথিমধ্যে পুলিশ তা আটক করে।
