অবশেষে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ছবি ফিরিয়ে আনল ফেসবুক

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৮:৪৯
 
অবশেষে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী আলোকচিত্র 'নাপাম গার্ল' শেয়ারের সুযোগ করে দিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এর আগে কমিউনিটি গাইডলাইন অনুসারে নগ্নতার অভিযোগ তুলে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতীকে পরিণত হওয়া ছবিটিকে সেন্সর করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
 
ভিয়েতনাম যুদ্ধকালীন সময় তোলা ছবিটিতে দেখা যায়, নাপামে বোমা হামলার পর নগ্ন নয় বছরের একটি মেয়েসহ কয়েকটি শিশুর রুদ্ধশ্বাসে দৌড়াচ্ছে।
 
ফেসবুক প্রথমে ছবিটি সরানোর পক্ষে যুক্তি দেয়, 'এই ছবিটি আইকনিক হিসেবে আমরা বুঝতে পারলেও একই সঙ্গে একটি নগ্ন শিশুর আলোকচিত্র অনুমোদন করা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে তা না দেওয়ার বৈষম্য করাটা কঠিন।'
 
এরপর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার পর শুক্রবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত বদলায় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।
 
গার্ডিয়ানকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে ফেসবুক বলেছে, 'আমাদের কমিউনিটির বক্তব্য শোনার পরে আমরা পুনরায় দেখি, এক্ষেত্রে আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস কীভাবে কাজ করে। একটি নগ্ন শিশুর ছবি স্বাভাবিকভাবে আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড লংঘন করে বলে ধরে নেওয়া হয় এবং কিছু কিছু দেশে এমনকি তা শিশু পর্নগ্রাফি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ক্ষেত্রে আমরা ছবিটির ইতিহাস এবং সময়ের বিশেষ মুহূর্ত তুলে আনতে এর বৈশ্বিক গুরুত্ব বুঝতে পেরেছি।
 
এর আগে ফেসবুক ছবিটি সেন্সর করলে তার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার নরওয়ের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক 'অফটেনপোস্টেন'র প্রথম পৃষ্ঠায় একটি খোলা চিঠি প্রকাশ হয়। এতে 'বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সম্পাদক' হিসেবে জাকারবার্গকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়।
 
উল্লেখ্য, উত্তর ভিয়েতনাম বাহিনীর অধিকৃত এলাকা ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনী ১৯৭৩ সালের ৮ জুন তাদের দেশেরেই একটি এলাকায় ভুলবশত নিজেদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে নাপাম বোমা নিক্ষেপ করে। দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি এই বোমায় আক্রান্তদের শরীর পুড়তে থাকে। ওই বোমা হামলার পর গ্রামের আরো কয়েক শিশুর সঙ্গে দৌঁড়াতে থাকে নয় বছরের কিম পুফ, যার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে যুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে সাড়া ফেলেন এপির আলোকচিত্রী নিক ইউটি। বিডি নিউজ।
 
ইত্তেফাক/আরএ