ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে যশোরের মণিরামপুরের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ হাজার পরিবারের বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে এসব বানভাসি মানুষের ঈদ কাটবে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ও রাস্তায়। এসকল অঞ্চলের ঈদের নামাজও পড়তে হবে রাস্তা বা সম্ভাব্য কোনো উঁচু জায়গায়
ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে যশোরের মণিরামপুরের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া ৫ হাজার পরিবারের মানুষের বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে এসব বানভাসি মানুষের ঈদ কাটবে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ও রাস্তায়। এসকল অঞ্চলের ঈদের নামাজও পড়তে হবে রাস্তা বা সম্ভাব্য কোনো উঁচু জায়গায়।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, কপোতাক্ষ, হরিহর, মুক্তেশ্বরী, টেকা ও শ্রী-হরি নদীর উজানের পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও ভবদহের জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যামকুড়, মশ্মিমনগর, হরিহরনগর, হরিদাসকাটি, কুলটিয়া ও মনোহরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী। এদের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার ৪শ’ মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তার দু’ধারে, সম্ভাব্য উঁচু স্থানে, ইউনিয়ন পরিষদ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। গত এক মাস ধরে পানিবন্দী এই মানুষগুলো ঘর-বাড়ি ছাড়া হলেও ঈদের আগে তাদের বাড়ি ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় বা আশ্রয় কেন্দ্রে কাটবে বানভাসি ৫ হাজার পরিবারের মানুষের ঈদ।
শ্যামকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া রোজিনা বেগম জানান, ‘গত এক মাস ধরে পরিবারের ৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছি। চারদিক ডুবে গেছে কাজ-কাম নেই, যা ত্রাণ পাচ্ছি তাই দিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো খাচ্ছি। আমাদের আবার ঈদ।’
একই অভিব্যক্তি জানালেন যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ফকির রাস্তা এলাকায় রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূ আফরোজা খাতুন। তবে মণিরামপুরের বানভাসি মানুষগুলোর সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন সংগঠনসহ বিত্তবানরা এগিয়ে আসছেন। শ্যামকুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, পানি যেভাবে কমছে তাতে ঈদের আগে বানভাসি মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে ঈদ কাটবে আশ্রয় কেন্দ্রে কিংবা রাস্তায়। অত্র ইউনিয়নের ১০টি ঈদগাহ পানিবন্দী হওয়ায় সেখানে এবার ঈদের নামাজ পড়া সম্ভব হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, ঈদ উপলক্ষে সকল বানভাসিদেরকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া শুরু হয়েছে। ঈদের আগে ৫শ’ পরিবারকে আলু, তেল, মসলা, পেঁয়াজ, রসুন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রবিবার ৩শ’ ৩০ জন মেয়ে শিশুকে জামা-কাপড় দেওয়া হবে। এছাড়া সামর্থ্যহীনদের মাঝে মাংসও বিতরণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এএন
