ট্রাম্প-রাশিয়া যোগসাজশ নিয়ে মুলারের তদন্ত রিপোর্ট পেশ

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং ট্রাম্পের যোগসাজস নিয়ে করা তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। দীর্ঘ ২২ মাসের তদন্ত শেষে রিপোর্টটি মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের কাছে পেশ করেন কমিটির প্রধান রবার্ট মুলার। রিপোর্টটি দ্রুত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। যদিও কবে এবং রিপোর্টের কতটুকু প্রকাশ করা হবে সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি অ্যাটর্নি জেনারেল। বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিংবা তার আর কোনো সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। খবর রয়টার্স ও বিবিসি’র

রক্ষা পাচ্ছেন ট্রাম্প!

মার্কিন বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালে মুলারের কমিটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছয় সহযোগীসহ ৩৪ কর্মকর্তা ও তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিল। এদের মধ্যে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্ট, ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন ছিলেন। বিচার বিভাগের ওই কর্মকর্তা জানান, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টে ট্রাম্প কিংবা তার সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। এমনকি রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের যোগসাজসের কোনো প্রমাণ আছে কিনা সেই বিষয়টি নিয়েও সংশয় আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই বলে আসছেন, তার সঙ্গে রাশিয়ার কোনো যোগসাজস নেই।

দ্রুত প্রকাশের দাবি আইনপ্রণেতাদের

মার্কিন আইনপ্রণেতারা তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, রিপোর্টের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হবে। আইনপ্রণেতাদের দাবি নিয়ে তিনি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে চিঠিও পাঠিয়েছেন। এতে তিনি চলতি সপ্তাহে সংক্ষিপ্ত আকারে রিপোর্ট প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন। বার বলেছেন, রিপোর্টের বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলেছেন, রিপোর্ট প্রকাশ করা না হলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের তলব করা হবে। এরই মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইলেক্ট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশের দাবি জানিয়ে তথ্য অধিকার আইনে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

প্রতিক্রিয়া

তদন্তের মূল বিষয় ছিল- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া প্রভাবিত করেছে কিনা, ট্রাম্পের সঙ্গে দেশটির যোগাযোগ এবং বিচার বিভাগের কাজে ট্রাম্প বাধা দিয়েছেন কিনা। কিন্তু ট্রাম্প সবসময়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে রিপোর্ট হস্তান্তরের পরও ছুটিতে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স বলেছেন, রিপোর্টটির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদক্ষেপই মূল। হোয়াইট হাউসকে এখনো রিপোর্টের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সবকিছু করা হবে বলে তিনি আশা করেন। একই মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি গিউলিয়ানি এবং জে সেকুলো।

এখন কী হতে পারে

আইনগতভাবে রিপোর্টটি প্রকাশের কোনো বাধ্যবাধকতা অ্যাটর্নি জেনারেলের নেই। তিনি এটা কংগ্রেস না দিলেও কোনো সমস্যা নেই। তবে নিয়োগ নিশ্চিতের সময় সিনেটে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, তিনি যতো দ্রুত সম্ভব রিপোর্টটির বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। তিনি যদি কংগ্রেসের কাছে রিপোর্টটি দেন তাহলে জনসম্মুখে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে। আর এই রিপোর্টই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারো হাতিয়ার হতে পারে।