‘কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের পাশাপাশি নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও শিল্পে রূপ দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক সংগঠন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখা জরুরি।’ গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘আর্টিকেল নাইনটিন’ আয়োজিত ‘নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শ সভায়’ গণমাধ্যমের সম্পাদকরা এমন মন্তব্য করেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে নারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার তুলনামূলক পরিস্থিতির চিত্র তুলে আনতে আর্টিকেল নাইনটিন দেশের মূলধারার ছয়টি গণমাধ্যম সরেজমিন পরিদর্শন, প্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা, প্রতিবন্ধকতা প্রভৃতি বিষয়ে কর্মরত ৪৬ জন নারী সাংবাদিকের সাক্ষাত্কার গ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে আর্টিকেল নাইনটিন এর প্রোগ্রাম অফিসার মরিয়ম শেলি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। আর্টিকেল নাইনটিন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, কালের কণ্ঠ’র প্রধান প্রতিবেদক আজিজুল পারভেজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান প্রতিবেদক আবদুর রহিম হারমাছি, একুশে টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক শেখ জাহিদুর রহমান, ঢাকা ট্রিবিউনের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক ইশা অরোরা, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা এবং বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিএনএনআরসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান।
ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় দেশে অনেক আইন রয়েছে। তবে সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা ফলোআপ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীর জেন্ডার সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে’। প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ‘ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রসারে নারীর কাজের সুযোগ বেড়েছে। তবে পেশাগত মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় নারী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা নিরসনে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় শুদ্ধি অভিযান এবং প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে’। এএইচএম বজলুর রহমান বলেন, ‘নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিকতা পেশার সামগ্রিক মানোন্নয়ন করা জরুরি’। মি টু আন্দোলনের উদাহরণ টেনে আবদুর রহিম হারমাছি বলেন, ‘বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে নারীকে আরো সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে’। শেখ জাহিদুর রহমান বলেন, ‘পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সামগ্রিকভাবে সবার জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে’। এজন্য জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের জন্য প্রভিডেন্ড ফান্ড গঠনের দাবি জানান তিনি।
এশা অরোরা বলেন, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও নারীকে মনোযোগী হতে হবে’। পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেন, ‘সব গণমাধ্যমে নারীকে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ওয়েজবোর্ডের সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নে দাবি জানান তিনি।’ চলমান মি টু আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফারুখ ফয়সল বলেন, ‘এ আন্দোলনের কারণে কর্মক্ষেত্রে নারীর যৌন হয়রানি কমে আসবে’।
