আজিমপুরে গোলাগুলি: নিহত ব্যক্তি তেহজীব করিম?

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৩:৩৫
রাজধানীর আজিমপুরে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল করিম। তার বাবার নাম মুসলে উদ্দিন। তার বাড়ি রাজশাহী। তবে নিহত ব্যক্তি জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিখোঁজ তেহজীব করিম কি না এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। নিহত ব্যক্তির নাম পরিচয় নিশ্চিত হতে তার আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের শনাক্তের কাজ চলছে। 
 
এদিকে, পুলিশের ওই অভিযানে আহত তিন নারী জঙ্গির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এরা হলেন- জেবুন্নাহার শীলা, শাহেলা ও শারমিন। আহতদের মধ্যে আবদুল করিমের একজন স্ত্রীও রয়েছেন।
 
জেবুন্নাহার শীলা গত ২ সেপ্টেম্বর রূপনগরে পুলিশের অভিযানে নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
 
শনিবার রাতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের একটি টিম রাজধানীর আজিমপুরে বিজিবি সদর দফতরের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন ২০৯/৫ নম্বর ছয়তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালালে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
 
প্রসঙ্গত, আজিমপুরে নিহত জঙ্গি তেহজীব করিম গুলশান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড নিহত তামিম চৌধুরীর সেকেন্ড ইন কমান্ড। বাংলাদেশে টার্গেট কিলিং-এর পরিকল্পনাকারী  ও জঙ্গি বাহিনী সৃষ্টির অন্যতম হোতা ড. রেজাউর রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এই তেহজীব করিম। গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে বের হয়ে আসে ড. রেজাউর রাজ্জাক ও তেহজীব করিমের নাম। ২০০৫ সালে ধানমন্ডির সাত নম্বর সড়কে রিসার্চ সেন্টার ফর ইউনিটি ডেভলপমমেন্ট (আরসিইউডি) নামে এক এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা এই ড. রেজাউর রাজ্জাক। এই এনজিওর চেয়ারম্যান তেহজীব করিমের শ্বশুর ড. আব্দুর রশিদ চৌধুরী। এনজিওর আড়ালে জঙ্গি বাহিনী গড়ে তোলার কাজ চলতো। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উগ্রপন্থি শিক্ষকরা এই এনজিও অফিসে মিলিত হতেন। সন্ধ্যার পর বসতো হালাকা (মজমা)। এই হালাকায় উক্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে সেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবি শিক্ষার্থীদের এই হালাকায় নিয়ে আসা হত।