পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ পিয়াসীদের ঢল

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০১:০৪
ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ-পিয়াসীদের ঢল নেমেছে। কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও অন্যান্য স্থানের হোটেল, মোটেল ও রেস্ট হাউসগুলো এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর।
 
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, বিশ্বের দীর্ঘতম ও দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে এখন পর্যটকের ঢল নেমেছে। ঈদের প্রথম এবং দ্বিতীয় দিন স্থানীয়দের ভিড় থাকলেও মঙ্গলবার বিকাল থেকে নানা বয়সী পর্যটকের পদচারণায় কক্সবাজারের সমুদ্র তীরসহ প্রতিটি পর্যটন স্পট এখন মুখরিত। এছাড়া প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় আনন্দের জোয়ারে মেতে উঠেছে আগেই অবস্থান নেয়া ভ্রমণ-পিয়াসীরা। ঈদের দিন সকাল থেকে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও শৈবাল পয়েন্টে গা ভাসিয়ে বাঁধ ভাঙা উল্লাসে মেতেছেন তারা। আর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ একাধিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
 
এদিকে পর্যটকদের আগমনে সমুদ্র সৈকত ও বিপনি কেন্দ্রে প্রাণচাঞ্চল্যের সষ্টি হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। রাস্তাঘাটে দেখা দিচ্ছে ট্রাফিক জ্যাম। হোটেল-মোটেলের প্রায় সব কক্ষ রবিবার পর্যন্ত আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের ছুটিতে প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক আসায় জেলার পর্যটন স্পটগুলো প্রতিবারের মতো এবারও চাঙ্গা হয়ে  উঠেছে। এছাড়া সমুদ্র শান্ত থাকায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন জলপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল আবারও চালু হয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের উপস্থিতি আরও বেড়ে গেছে।
 
সরেজমিন পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে জানা গেছে, এবারের ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে কক্সবাজারে বেড়াতে আসছেন পর্যটকরা। বিশেষ করে কোরবানি ঈদের পরে মঙ্গলবার বিকাল এবং বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে পর্যটকের ঢল। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে মঙ্গলবার বিকাল থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন। অনেক আগে থেকেই শহরের হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর ৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম ভাড়া হয়ে যায়। মঙ্গলবার বাকিগুলোরও প্রায় সকল কক্ষ অতিথিপূর্ণ হয়ে গেছে। তাই আগামী রবিবার পর্যন্ত শহরের হোটেল-মোটেলে প্রায় কোনো কক্ষ খালি নেই। একই কথা জানান তারকা হোটেল সী-গাল এর নির্বাহী পরিচালক আরেফিন সিদ্দিকী রুমী।
 
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ)সভাপতি মো. রেজাউল করিম জানান, এবার ঈদের ছুটিতে আশাতীত সংখ্যক পর্যটক এসেছেন কক্সবাজারে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও শহর ও পার্শ্ববর্তী পর্যটন স্পট বিশেষ করে সেন্টমার্টিন, হিমছড়ি ঝর্ণা, দরিয়ানগর, ইনানী, টেকনাফ, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে গত দু’দিন ধরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। আদিনাথ মন্দির, শহরের অগ্গ মেধা ক্যাং এবং রামুর বৌদ্ধ মন্দিরসহ ধর্মীয় তীর্থস্থানগুলোতেও প্রচুর সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণ করছেন।
 
কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের মুখ দেখায় তাদের বেচা-বিক্রি বর্তমানে চাঙ্গা। একই সুরে শহরের টমটম চালক স্বপন বলেন,পর্যটকের আগমনে তাদের দৈনিক রিজার্ভ ভাড়া দশগুণ বেড়ে গেছে।
 
কক্সবাজার ঝিনুক শিল্প বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি জানান-পর্যটকদের আগমনে ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পের সাথে জড়িত পর্যটননির্ভর কয়েক হাজার পরিবারের মাঝে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।
 
অপরদিকে পর্যটকের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় কিছু রেস্তোরাঁর মালিক সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন খোদ কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির উপদেষ্টা নঈমুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এই অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার। তা না হলে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
 
ইয়াসির লাইফগার্ড স্টেশনের পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, লাবণী পয়েন্ট ছাড়া ১১০ কিলোমিটার সৈকতের অন্য কোথাও গোসলে নামা নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। গোসলে নামার আগে পর্যটকদের জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, জোয়ারের সময় সৈকতে সবুজ পতাকা ওড়ানো থাকে। তখন সৈকতে নামা যায়। ভাটার সময় ওড়ানো থাকে লাল নিশানা। তখন সমুদ্রে নামা বিপজ্জনক।
 
অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য রেখে সৈকতে পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। এছাড়া র্যাব এবং সাদা পোশাকের পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে। তিনি আরো জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ইতোমধ্যে ৭টি পর্যটন স্পটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এসব পয়েন্টে ১৩৬ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে।
 
এছাড়া ঈদের পরদিন টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, এর জন্য টেকনাফের দমদমিয়ার জেটিঘাটে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। প্রমোদতরীতে (জাহাজ) অতিরিক্ত ভাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
 
কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু নাছের জানান, কক্সবাজারে ২৪টি সরকারি রেস্টহাউস বা বাংলো রয়েছে। ওই রেস্টহাউসগুলোতে ৪৩টি ভিআইপি কক্ষ ও ৫৫টি সাধারণ কক্ষ রয়েছে। এছাড়া হিলটপ ও হিলডাউন সার্কিট হাউসে আরো চারটি ভিআইপি ও ১২টি সাধারণ কক্ষ রয়েছে। কিন্তু এসব কক্ষের কোনোটিই এখন খালি নেই।
 
কক্সবাজার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, কক্সবাজার থেকে ইনানী সৈকত পর্যন্ত সব স্পটেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাতের বেলায় হোটেল ও গেস্টহাউসগুলো পুলিশের নজরদারিতে থাকবে। সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও টহল পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
 
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কক্সবাজারে এসে পর্যটকরা যাতে বিড়ম্বনার শিকার না হন এবং হোটেল রেস্টুরেন্টগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সেজন্য ৪ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া শহরের হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ ও যানবাহনসহ রিকশায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা রোধে মূল্য তালিকা টানিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত বান্দরবানে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে নীলাচল, মেঘলা, নীলগিরি, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, প্রান্তিক লেক, রিজুক ঝরনাসহ দর্শনীয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলো। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। জেলা শহরসহ আশপাশের আবাসিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট এবং গেস্টহাউস কোথাও সিট খালি নেই। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরও যেন থামছে না পর্যটকদের হয়রানি আর ভোগান্তি। পরিবহন শ্রমিকদের হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন ৩ জন পর্যটক।
 
 চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা কয়েকজন পর্যটক বলেন, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে টিকিট কেটে পূরবী গাড়িতে বান্দরবান বেড়াতে আসছিলাম। কিন্তু চেয়ারকোচ গাড়িটি চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে কেরানিহাট পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দটি পয়েন্টে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করিয়েছে। বিরতিহীন সার্ভিসের কথা বলে যেখানে সেখানে দাঁড়ানোর প্রতিবাদ করায় বান্দরবান বাসস্ট্যান্ড পৌঁছানোর পর গাড়ির চালক-হেলপারসহ শ্রমিকরা তাদের নারী-পুরুষ ছয়জনকে মারধর করে। স্থানীয় পরিচিত বন্ধু-আত্মীয়-স্বজনকে ফোন করলে তারা এসে আমাদের উদ্ধার করে। আগের দিন নেপালের কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছে পূরবী-পূর্বাণীর বাস সার্ভিসের শ্রমিকরা। নেপালী পর্যটক ললিথ ভান্ডারী ও সিবানী বলেন, বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে তারা মুগ্ধ। ভ্রমণে কোনো সমস্যা হয়নি তাদের। কিন্তু যাওয়ার বেলায় পূরবী বাস সার্ভিসের শ্রমিকরা টিকিটের বাইরে প্রতিটি লাগেজের জন্য একশ টাকা করে দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং লাগেজ নিয়ে টানাটানি করে। আমরা বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অনেকগুলো দেশ ভ্রমণে গেছি। কিন্তু এমন ঘটনা কোথাও দেখিনি। স্থানীয় প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়ার অনুরোধ করেন তারা।
 
ঈদের লম্বা ছুটিতে বিনোদনের জন্য পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় বান্দরবানে ঢল নেমেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। পর্যটকের মন ভোলানোর সমস্ত আয়োজন রয়েছে বান্দরবানে। পাহাড় থেকে ঝরে পড়া ঝরনা, প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু, কেবল কার, স্পিডবোটে ভ্রমণসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। জেলার দর্শনীয় স্থান নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক পাহাড়, রিজুক ঝরনা, প্রান্তিক লেক, ঝুরঝুরি ঝরনা এবং নীলগিরি পর্যটন স্পটে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
 
জেলা হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় পর্যটকের আগমন অনেক কমে গেছে বান্দরবানে। রমজানের ঈদেও পর্যটকের আশানুরূপ আগমন ঘটেনি। তবে কোরবানি ঈদের লম্বা ছুটিতে ব্যবসায়ীরা সে ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করছি।
 
জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, বান্দরবানে পর্যটকের আগমন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদে এবং স্বচ্ছন্দে আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও কাজ করছে। পর্যটকরা আমাদের অতিথি। পর্যটকদের সঙ্গে শ্রমিকদের বিচ্ছিন্ন যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা জানান, ঈদের ছুটিতে কাপ্তাইয়ের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে ঈদের দিন গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে নারী- পুরুষ শিশু-কিশোরদের আনন্দ বিনোদনে মেতে থাকতে দেখা গেছে।
 
নৌ বাহিনী পরিচালিত লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট, সেনাবাহিনীর ৫ আরই পরিচালিত লেকশোর সেনা রিজোর্ট, ১৯ বিজিবি পরিচালিত জুম রেস্তোরাঁ, বন বিভাগ পরিচালিত ন্যাশনাল পার্ক, বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র বনশ্রী, সেনাবাহিনীর ১০ বেঙ্গল পরিচালিত রিভারভিউ ক্যাফে এন্ড পিকনিক স্পটে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
 
বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রুবায়েত আক্তার আহমেদ বলেন, বিনোদন কেন্দ্রগুলো কাপ্তাই লেক ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে। মানুষ ভ্রমণ করতে এসে সবুজ পাহাড়, বন-বনানী, সমতল ভূমির পাশাপাশি পানির ছোঁয়া পেতে চায়। কাপ্তাইয়ের সবগুলো বিনোদন কেন্দ্র কাপ্তাই লেক অথবা কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এর প্রতি আকর্ষণ থাকে বেশি। তিনি বলেন বিনোদন কেন্দ্র থেকে সবুজ বনরাশি, স্বচ্ছ নীল জল, পাহাড় আর বিশাল নীল আকাশ দেখা যাওয়ায় এগুলোর আকর্ষণে মানুষ ভ্রমণ ও বিনোদনের জন্য কাপ্তাইকে বেছে নেন।
 
কাপ্তাইয়ে অবস্থিত ওয়াগ্গাছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রশীদ কাদেরী বলেন, মানুষ বিনোদন ও ভ্রমণের পাশাপাশি নিরাপত্তা চায়। কাপ্তাইয়ে রয়েছে সব রকম নিরাপত্তা। এখানে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিজিবি, আনসার বাহিনীর একাধিক ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এছাড়াও আছে গোয়েন্দা সংস্থা। এসবের কারণে কাপ্তাই সুষ্ঠু ও সুন্দর বিনোদনের জন্য সবার কাছে অতি প্রিয়।
 
কাপ্তাইয়ে অবস্থিত ১৯ বিজিবি পরিচালিত প্যানারোমা জুম রেস্তোরাঁটি একেবারে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এবং কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত হওয়ায় এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। গতকাল বৃহস্পতিবার দেখা গেছে পর্যটকদের কেউ নৌ ভ্রমণ করছেন। কেউ নদীর তীরে বসে গল্প করছেন। অনেকে ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত। কেউ কেউ ক্যাফেতে বসে হরেক রকম খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন।
 
সিলেট অফিস জানায়, মেঘ-পাহাড় ও হাওরের জনপদ সিলেটে এসেছেন প্রচুর পর্যটক। ঈদের আগে থেকেই সিলেটের বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাইজ বুকড করা হয়। পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকৃতি কন্যা জাফলং, মাধবকুণ্ডসহ পাহাড়, ঝর্ণা, চা-বাগান, বন-বনানী, হাওরসহ বৃহত্তর সিলেটের নানা পর্যটন স্পট ও ঐতিহাসিক স্থানে।
 
এবার ঈদের ছুটির সঙ্গে সিলেটে বেশি করে উচ্চারিত হচ্ছে-সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের জল-জোত্স্নার উত্সব, সিলেটের মায়াবনের কথা। জাফলং, মাধবকুণ্ডসহ সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটের সঙ্গে এগুলোর প্রচার মানুষকে বেশি আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে টাঙ্গুয়ার হাওরের জল-জোত্স্নার উত্সবকে ঘিরে সেখানে যেন এক ধরনের মদিরতার সৃষ্টি হয়েছে।  
 
আজ ১৬ সেপ্টেম্বর দুদিন ব্যাপী আয়োজিত ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনটি আগ্রহীদের এরই মধ্যে মোহাচ্ছন্ন করে দিয়েছে।
 
গতকাল উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম কামরুল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আশা করছি ১৫ হাজার পর্যটক এই জল-জোত্স্না উত্সবে যোগ দিবেন।’ ‘প্রতিজন পর্যটক গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে ৭শ লোকের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। জল-জোত্স্না উত্সবের জন্য আড়াই হাজার টাকার প্যাকেজ রয়েছে। দুদিনব্যাপী এই প্যাকেজে নৌকায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও উত্সবের সব অনুসঙ্গ উপভোগের ব্যবস্থা থাকবে।      
 
ভ্রমণপিয়াসীদের আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা পরিষদ। পরিকল্পনায় দুদিনের ভ্রমণোত্সবে টাঙ্গুয়ার হাওরের মধ্যখানে ভাসমান মঞ্চ করে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। এ ছাড়া সেখানকার পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখার ব্যবস্থা থাকবে।
 
 

ইত্তেফাক/এএন