অবশেষে পাকবাহিনীর কাছে পাশবিক নির্যাতনের শিকার ধামের হাটের মজিরন বেওয়া বীরঙ্গনার খেতাব পেলেন। খেতাব প্রাপ্তিতে এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দিত হলেও মজিরনের নেই কোনো অনুভূতি। কারণ নিজে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বামীকেও চোখের সামনে পাকবাহিনীর গুলিতে মরতে দেখে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর ধরে তিনি মানসিক ভারসাম্য অবস্থায় বেঁচে আছেন। গত ১০ আগস্ট ২০১৬ তারিখে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তাকে বীরঙ্গনার খেতাব প্রদান করা হয়।
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সদর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে ধামের হাট বাজার। এই ধামের হাটের আনসার কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা তমেজ উদ্দিনের স্ত্রী মজিরন (৬৯)। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষভাগে আনসার কমান্ডার (মুক্তিযোদ্ধা) তমেজ উদ্দিনের স্ত্রী মজিরনকে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকবাহিনীর সদস্যরা পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন চালায়। শুধু তাইনয়, এ বাড়িতেই স্বামী তমেজ উদ্দিনকে পাক বাহিনী গুলি করে হত্যা করে।
বীরঙ্গনা মজিরনের বড় মেয়ে মাজেদা (৫৫) বলেন, ‘ওই সময় আমার বয়স ছিলো ১০/১২। যুদ্ধের কয়েকদিন আগে তার বিয়ে হয়। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে স্বামীর সঙ্গেতিনি ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশি ছিটমহল ছাটতিলাইয়ে চলে যান।’
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এ সময় বাড়িতে সাত ও তিন বছর বয়সী দুই সন্তান মজিদ ও ফাতেমাকে নিয়ে মা একা ছিলেন। সেদিন (ঘটনার দিন) দুটি পালিত গাভী সীমান্তে এনে দুই সন্তান নিয়ে তার ভারতে যাওয়ার কথা ছিলো। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার অপরাধে রাজাকারদের সহযোগিতায় ১৩ জন পাক সেনা বাড়িতে এসে মাকে পালাক্রমে নির্যাতন চালায়। এরপর পাক সেনারা বাবাকে গুলি করে হত্যা করে। পরে এলাকাবাসী মাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে জ্ঞান ফিরিয়ে আনেন।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাহারুল ইসলাম জানান, ঈদে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য প্রদান করা হয়েছে। শীঘ্রই বীরঙ্গনাকে উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
