শেয়ারবাজার ধসের কারণে বড় অংকের মূলধনী লোকসানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন কমে যাওয়ায় অনেক মার্চেন্ট ব্যাংকই অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গেছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারকে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে সরকারের কাছে সহজ শর্তে ছয় হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ চেয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো দুটি চিঠিতে এ বিষয়ে আবেদন জানিয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।
মার্চেন্ট ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছে, মূলধনী লোকসানে থাকা মার্জিন ঋণ গ্রহণকারী গ্রাহকদের জন্য এ তহবিল চাওয়া হয়েছে। আর ঋণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক কোনো ব্যাংক বা ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পানির সহযোগী কোম্পানি হলে তাদের মূল কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক জামিনদার হতেও রাজি আছে। এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তহবিলের বিপরীতে সরকারকে বার্ষিক ৩ শতাংশ সুদ দিতেও সম্মত রয়েছে। বিএমবিএর প্রস্তাব হলো- বিশেষ ঋণ তহবিলের মেয়াদ হবে সাত বছর। প্রথম দুই বছর কেবল সুদ দেওয়া হবে। পরের বছরগুলোতে সুদসহ ২০ শতাংশ হারে আসল ফেরত দেওয়া হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ধস নামার পর মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রায় সব গ্রাহক মূলধনী লোকসানে পড়েছেন। ২০১৫ সাল শেষে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে পাওনা মার্জিন ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার মূলধনী লোকসান রয়েছে। অবস্থা এমনই হয়েছে যে, কিছু বিনিয়োগকারী তার সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েও মার্জিন ঋণ শোধ করতে পারবেন না।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নিজেদের মূলধনের সিংহভাগ মার্জিন ঋণ আকারে প্রদান করে তা ফেরত না পাওয়ায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে নিজস্ব বিনিয়োগ করতে পারছে না। গ্রাহকদের পক্ষে শেয়ার কেনাবেচা বাবদ কমিশন আয় থেকেও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় মেটানো যাচ্ছে না। ফলে লোকসান নিয়ে চলছে। এ কারণে সরকারও করবাবদ রাজস্ব আয় পাচ্ছে না। এ অবস্থায় বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়িয়ে শেয়ারদরে কিছু উত্থান হলে কেনাবেচা করেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। তবে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তহবিল নেই। আবার বিভিন্ন আইনি বাধার কারণে ব্যাংক থেকেও ঋণ নিতে পারছে না। তাই কেবল সরকারের বিশেষ নীতি সহায়তা ও বিশেষ তহবিলই দেশের শেয়ারবাজারে তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও নতুন করে গতি সঞ্চার করতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এদিকে শেয়ারবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি লাঘব করতে সরকার বিশেষ স্কিমের আওতায় ৯০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেছিল। সুবিধাভোগী পর্যায়ে এ ঋণের সুদহার ছিল ৯ শতাংশ। সম্প্রতি তা কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়। এরপরও এ ঋণের প্রায় ২৫৮ কোটি টাকা এখনও অব্যবহৃত পড়ে আছে।
বিএমবিএর নেতারা বলেন, বিশেষ স্কিমের ঋণ তহবিলটি কেবল ক্ষুদ্র বনিয়োগকারীদের জন্য। কিন্তু শেয়ারবাজারের সার্বিক সংকট কাটাতে ক্ষতিগ্রস্ত সব বিনিয়োগকারীর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এ সহায়তা অনুদান হিসেবে নয়, বরং ঋণ হিসেবে চাওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
