পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাঙামাটি। ঈদের পর থেকে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে পর্যটক আসছেন।
হাজার হাজার পর্যটক কাপ্তাই লেক, পাহাড়, ঝর্ণা আর নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়বেষ্টিত রাঙামাটিতে। যান্ত্রিকতার একঘেয়েমি থেকে প্রকৃতির কাছাকাছি কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে লোকজন প্রতিনিয়ত ছুটে আসছেন এখানে। পর্যটকরা এর সৌন্দর্য আরো বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।
প্রবাসী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে দুবাই আছি। ঈদের বন্ধের সময় দেশে পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ করতে এসেছি। দীর্ঘ দুই বছর পর দেশে ফিরে পরিবার নিয়ে রাঙামাটি বেড়াতে এসেছি। দেশে এসে মনে হয়েছিল, দেশটা কোলাহল ও যানজটপূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু রাঙামাটি এসে মনে হচ্ছে, আমি যেন অন্য এক স্থানে আছি। এখানে কোনো যানজট নেই, কোলাহল নেই। কি সুন্দর প্রকৃতির চিত্র, পাখির আওয়াজ, যা আসলে মন ভুলিয়ে দেয়।’
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘প্রত্যেক বছর ঈদের ছুটিতে রাঙামাটি বেড়াতে আসি। এবারো তা মিস হয়নি। এখানে অনেক সুন্দর সুন্দর স্থান রয়েছে, যা দেখলে আসলে মন জুড়িয়ে যায়। স্বল্প সময়ের জন্য স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সকালে হোটেলের জানালা দিয়ে যখন কাপ্তাই হ্রদ দেখি, তখন আরো বেশি ভালো লাগে। সত্যি বলতে কি প্রকৃতি কত সুন্দর, তা আমি রাঙামাটি না এলে জানতে পারতাম না।’
রাঙামাটি প্রিন্স আবাসিক হোটেলের স্বত্বাধিকারী নেছার আহম্মেদ বলেছেন, ‘আবাসিক হোটেলগুলোতেও এরই মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বুকিং হয়ে গেছে।’ তার মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এই সংখ্যা বাড়বে। ঈদের আগে থেকে এখানে পর্যটকরা রুম বুকিং করে রেখেছেন। সারা বছরই পর্যটক আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ট্যুরিস্ট বোটঘাটের ব্যবস্থাপক মো. রমজান আলী বলেন, এবার রাঙামাটিতে প্রচুরসংখ্যক পর্যটক আসছেন। তাঁদের আনাগোনায় ভরপুর হয়ে গেছে রাঙামাটি শহর। হ্রদে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এসএস
