প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সিলেটের নানা পর্যটন স্পটে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নানা বয়সের পর্যটক ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকৃতি কন্যা জাফলং, মাধবকুণ্ড, চা-বাগানসহ বৃহত্তর সিলেটের নানা ঐতিহাসিক স্থানে। বিশেষ করে এবার গোয়াইনঘাটে মায়াবন এ পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।
পর্যটকরা মায়াবন দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। বনের জলাভূমির মধ্যে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি হিজল, জাম, বরুন, করচ গাছের বিশাল বাগানটি এতই ঘন যে ভেতরের দিকে সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে জল ছুঁতে পারে না। মায়াবনের গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী আর পাখি। মাঝে মাঝে মৃদু বাতাসে জলাভূমির ছোট ঢেউ আছড়ে পড়ে গাছের সঙ্গে। হিরন্ময় নীরবতার মাঝে সেসব শব্দে পর্যটকদের মুগ্ধ করছে মায়াবন। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান, গোয়াইনঘাট একটি পর্যটন উপজেলা। উপজেলার অন্যান্য পর্যটন সপটের মতো মায়াবনও পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে। মায়াবনে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। ভরা বর্ষায় ছোট ডিঙি নৌকায় বৈঠা বেয়ে বনের ভেতর গেলেই পাখির কল-কাকলি নীরবতা ভঙ্গ করে। এখানে রয়েছে মাছরাঙা, বিভিন্ন প্রজাতির বক, ঘুঘু, ফিঙে, বালিহাঁস, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির পাখি। বন্যপ্রাণীর মধ্যে আছে বানর, উদবিড়াল, কাঠবিড়ালি, মেছোবাঘ ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রজাতির গুঁইসাপ ও নানা ধরনের সাপের অভয়াশ্রমও এই বন।
উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নে জুগিরকান্দি হাওরে অবস্থিত এ নয়নাভিরাম বনের নাম স্থানীয়ভাবে দেওয়া হয়েছে মায়াবন। প্রায় ১ হাজার একর ভূমিজুড়ে বিস্তীর্ণ এ বন তার রূপের মায়াবী ইন্দ্রজাল ছড়িয়ে পর্যটকদের মন আকৃষ্ট করছে। মায়াবনের নিবিড় প্রকৃতি মনকে নিয়ে যায় রূপকথার অজানা দেশে। যেখানে প্রবেশ করলে আর ফিরে আসতে মন চায় না। বনের দক্ষিণ পাশে রয়েছে সারী-গোয়াইনঘাট পাকা সড়ক, উত্তরে সারী ও পিয়াইন নদীর মিলনস্থল। পূর্ব দিকে বিশাল বিলের মধ্যে শাপলা ও পদ্ম ফুলের সমারোহ। পশ্চিম দিকে দেশের অন্যতম মূর্তা বাগান।
সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক হয়ে ৩৭ কি.মি. অতিক্রম করার পর সারীঘাট হয়ে যেতে হয় মায়াবনে। সারী-গোয়াইনঘাট সড়কে দিয়ে, সারীঘাট থেকে ৮ কি.মি. অতিক্রম করে বেখরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে যাত্রা বিরতি করতে হয়। এখান থেকে ভাড়ায় চালিত পানসিতে (ছোট নৌকা) চড়ে বেখরা খাল হয়ে, খালের দুতীরজুড়ে শ্যামল চাঁদরে আবৃত বাংলার রূপ দেখতে দেখতে মিনিট দশেকের মাথায় প্রবেশ করতে হয় মায়াবনে।
ইত্তেফাক/এএন
