বেনাপোলে ভারতগামী যাত্রীদের ঢল

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০২:২৫
ঈদের ছুটি শেষ হলেও ভারতগামী  যাত্রীদের ঢল নেমেছে বেনাপোল চেকপোষ্টে। যাত্রীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দুই দেশের চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন ও কাষ্টমস কর্মকর্তারা। যেন ভোগান্তির শেষ নেই এসব যাত্রীদের। এছাড়া রোগী ও শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন  সঙ্গিরা।
 
জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতে যাচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার পাসপোর্ট যাত্রী। কেউ চিকিত্সা, কেউ বেড়াতে কেউবা যাচ্ছে নাড়ির টানে আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করতে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব যাত্রীরা ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোল  চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতে ঢুকতেই নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকায় তাদেরকে ভারতীয় পুলিশ চেকিংয়ের নামে লাইনে দাঁড় করিয়ে পাসপোর্ট ও ব্যাগ সিরিয়ালে দেখছে দীর্ঘক্ষণ ধরে। দীর্ঘ লাইনের এসব যাত্রীদের পাসপোর্টের ঠিকানা, ভিসার মেয়াদ, ভারতে কোথায় অবস্থান করবেন এসব নানা প্রশ্ন করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি হয়রানির শিকার এসব যাত্রীর কেউ কেউ শিশু ও রোগীদের নিয়ে ভারতে না গিয়ে ফিরে আসছেন নিজ ঠিকানায়।
 
যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় পুলিশের একটি সিন্ডিকেট যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাইনের পাশ কাটিয়ে ভারতে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। এ সুযোগে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশও কিছু কিছু যাত্রীকে টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে সে দেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ফলে লাইনে থাকা যাত্রীদের ভারতে প্রবেশ করতে বেশ বিলম্ব হচ্ছে।
 
হয়রানি ও  ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা জানান, চার থেকে পাঁচ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে মাটিতে বসে আছি। নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় কোনো যাত্রী ছাউনি না থাকায় রোদ ও গরমে কোনো কোনো যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার শিশু মহিলা ও রোগীরা।
 
এ ব্যাপারে বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন ওসি ইকবাল হোসেন জানান, ঈদের পরে বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার যাত্রী ভারতে যাচ্ছে। নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকায় যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশনে তেমন কোনো সমস্যা না হলেও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ধীরগতির কারণে সকালে আসা যাত্রীরা দুপুরে ভারতে প্রবেশ করছে। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাজ করলে যাত্রীদের ভোগান্তি কম হতো।
 
 
ইত্তেফাক/এএন