ভাসমান হাসপাতাল “জীবন তরী” এখন পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে। বেসরকারি সংস্থা ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পরিচালনাধীন ওই হাসপাতালটি ছারছিনা দরবার শরীফ সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর তীরে নোঙ্গর করে চিকিত্সাসেবা প্রদান করে আসছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে ভাসমান ঐ হাসপাতালে রোগী দেখা, চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভাসমান এ হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে নাক, কান, গলা, চক্ষু রোগীদের চিকিত্সা ও বিশেষজ্ঞ সার্জনদ্বারা অপারেশন এবং হাড়জোড়া, হাড়ভাঙা পঙ্গু, জন্মগত ঠোঁটকাটা-তালুকাটা রোগীদের চিকিত্সা ও প্লাস্টিক সার্জারিসহ অন্য চিকিত্সা সেবা প্রদান করা হয়। হাসপাতালের প্রশাসক মো. আলাউদ্দিন মিয়া জানান গতকাল শনিবার পর্যন্ত ভাসমান হাসপতাল জীবন তরীতে স্বল্পমূল্যে ২১ হাজার ৩৩৭ জন রোগীকে চিকিত্সা সেবা প্রদান এবং ৯৯৩ জনকে রোগীকে অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশন করা রোগীদের মধ্যে ৯০৫ জন চক্ষু রোগী, ইএনটি ৬৬ জন, অর্থপেডিক (মুগুর পা) ১৩ জন এবং প্লাস্টিক সার্জারি (ঠোঁটকাটা রোগী) ৯ জন ।
এছাড়াও ১৬৯ জন হাত-পা বিকলাঙ্গ রোগীদের বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হয়েছে। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইমাম, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ধাত্রীদের প্রতিবন্ধিতার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছেন। এ যাবত্ ৭০০ জন সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী, ৭৩ জন ইমাম, ৫২ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ১২৫ জনকে ধাত্রীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ভাসমান এ হাসপাতালে সরকারি ছুটি ও শুক্রবার ব্যতিত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চিকিত্সা সেবা প্রদান করা হয়। হাসপাতাল জীবন তরীর এ কার্যক্রম এখানে আরো তিন মাস অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ঠোঁটকাটা রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে বলে জানা যায়।
ইত্তেফাক/এএন
