নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নদী পারাপার করে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। আত্রাই নদীর সাবগাড়ী-বিলহড়িবাড়ি পয়েন্টে সেতু না থাকায় ৪৪ বছর ধরে এভাবেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ২০ গ্রামের মানুষ।
খেয়া নৌকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এ অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পারাপার হয়। নদীর উত্তরপাড়ে, মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও সাবগাড়ী হাট রয়েছে। দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও বিলহরিবাড়ি কবরস্থান।
ওই নদী পার হয়ে দুই পাড়ের মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। এ ছাড়া দক্ষিণপাড়ের মানুষের জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। সাদেক মাঝি নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়েছেন। নৌকায় পার হতে বার্ষিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে সদস্য অনুপাতে আধা মণ থেকে ১ মণ হারে ধান নেওয়া হয়। এ ছাড়া দূরের এলাকা থেকে আসা মানুষের ক্ষেত্রে জনপ্রতি পাঁচ টাকা, বাই সাইকেল পাঁচ টাকা, মোটরসাইকেল ১০ টাকা নেওয়া হয়।
সাবগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী, আরিফুল, সান্তা, মরিয়ম, আঁঁখি ও শাপলা জানায়, নৌকায় পার হতে ভয় লাগে। তবুও স্কুলে যাওয়ার জন্য পার হতে হয়। তাছাড়া অনেক মানুষ গাদাগাদি করে নৌকায় ওঠে। এ কারণে বেশিরভাগ সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়।
হাট-সাবগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াছকুরুনী বলেন, নদীটিতে সেতু না থাকায় বর্ষাকালে খেয়া নৌকা আর শুষ্ক মওসুমে বাঁশের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শত শত ছাত্র-ছাত্রী পারাপার করে। কিছুদিন আগে নৌকা থেকে পরে এক ছাত্র মারাত্মক আহত হয়।
ইজারাদার সাদেক মাঝি বলেন, এই ঘাট দিয়ে বর্ষায় পারাপারের জন্য খেয়া নৌকা থাকে। শুষ্ক মওসুমে পানি কমে যায়। কোমর পানিতে নৌকা চলে না। তখন যোগাযোগ রক্ষার্থে বাঁশের সেতু ব্যবহার করা হয়।
বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, সেতু না থাকায় নৌকা করেই নদী পার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ ২০ গ্রামের মানুষ পারাপার হন। ভোগান্তি লাঘবের জন্য এই ঘাটে একটি সেতুর দাবি রয়েছে এলাকাবাসীর।
ইত্তেফাক/এএন
