মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় মানসিক এক প্রতিবন্ধী কিশোরী (১৪) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই কিশোরী উপজেলা সদরের ধলেশ্বরী নদীর উত্তরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। কিশোরীর বাবা বাসের কন্ডাকটর হিসেবে কর্মরত আর মা প্রবাসী।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সমাজপতিরা ওই এ ঘটনায় অভিযুক্তকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বলে জানা গেছে। সালিসে অভিযুক্তকে জরিমানা করার পর ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম টুটুল এখন ঘটনার সত্যতা পাননি অজুহাত দেখিয়ে অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, ঘটনার দিন মেয়েটি একই গ্রামে দুলালের (৫৫) বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। ওই দিন বাড়িতে কোনো লোকজন না থাকার সুবাদে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দুলাল। মেয়েটি যেতে না চাইলে একপর্যায়ে দুলাল জোর করে টেনে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং মেয়েটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটি তার নানী ও এলাকার লোকজনকে ঘটনাটি জানায়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে অভিযুক্ত দুলাল এলাকা থেকে গা ঢাকা দেয়।
মাতব্বরদের কাছে বিচারের দাবি জানালে ১৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় সালিস বসে। সালিসে দুলালকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। কিন্তু সালিসের তিনদিন পরও টাকা পায়নি বলে কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে।
ওই সালিসে মাতব্বর মোহাব্বত মাস্টার, জাসদ নেতা মো. লুৎফর রহমান, ‘স’মিল ব্যবসায়ী আলম শিকদার, সামছুল ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম টুটুল উপস্থিত ছিলেন।
ওই কিশোরীর মামী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। এলাকার মাতব্বরদের অমান্য করে থানায় যাই নাই। তাই বিচারের আশায় মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। জরিমানা করা হলেও সালিশের তিনদিন পরেও আমরা কোনো টাকা পাই নাই।’
ইউপি চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এলাকার মাতব্বরদের নিয়ে সালিসে বসেছিলাম। ঘটনার কোনো সত্যতা পাইনি। আমি কোনো রায়ও দেইনি।’
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে গ্রাম্য মাতব্বদের সমাধান দেয়ার এখতিয়ার নেই।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
