মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানকে রাজস্বের আওতায় আনার কৌশলও নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই এ লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটগুলো। আগামী ২৬ তারিখ এ লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিভিন্ন আমদানি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনকারী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে ব্যক্তি খাতেও কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেকে আয়করের আওতায় আসছেন না। এ ধরণের কর ফাঁকিবাজ প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির লক্ষ্যে এর আগেও একটি উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। তবে এবার দেশব্যাপী সব কমিশনারেট ও গোয়েন্দা বিভাগকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি দিন দিন বেগবান হওয়ায় দেশে রাজস্ব সম্ভাবনা সম্ভাবনা বাড়ছে। নানামুখি চেষ্টা স্বত্ত্বেও এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে করের আওতায় আনা যায়নি। এখনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ বিরাজ করছে। আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগ কর্তৃক এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগকে ৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী ২৬ তারিখে এসব বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এখন থেকে দেশব্যাপী মাঠপর্যায়ের অফিস ও কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারক করা হবে।
এনবিআরের নির্দেশনা অনাযায়ী, আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে মাঠপর্যায়ে কর রাজস্বের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের সকল রাজস্ব কর্মকর্তাদের পারফরমেন্স এর মূল্যায়ন ও মাসিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রেরণ, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে আরো সক্রিয় হওয়া, আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের মহাপরিচালক বা কমিশনারদের মধ্যে মাসিক পর্যালোচনা সভার আয়োজন করার নির্দেশনাও দেয়া হয়।
চলতি অর্থবছর ৩০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে গতি আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনতে হবে। এক্ষেত্রে যে সব বাধা বা প্রতিবন্ধকতা আসবে, তা নিরসনে সার্বিক চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
ইত্তেফাক/এমআই
